পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সিলেটের সন্তান হুমায়ুন কবির। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের মনোযোগ করেছেন তিনি। তবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেই শপথ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ফলে এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরদিনই (২৩ আগস্ট) একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এই বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, “পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তিনি তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেই প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সংবিধান ও আইন মেরেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

এর আগে ২৪ আগস্ট প্রতিমন্ত্রিত্বের প্রথম কর্মদিবসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি হুমায়ুন কবির। উল্টো উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কে নিউজ করছে, কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা? মানে কাজকর্ম থুইয়া…”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবেই এখানে মন্ত্রী হিসেবে আছি। আমি মনে করি না আমার বাংলাদেশিত্ব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করবে। বাংলাদেশে এসে দেশের জন্য কাজ করা কোনো সুবিধাভোগী লোকের কাজ নয়।”

তথ্যভিত্তিক ও সরাসরি জবাব না দিয়ে গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে প্রতিমন্ত্রীর এমন ‘আক্রমণাত্মক’ বক্তব্যে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে টিআইবি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দায়িত্বশীল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছ ও প্রামাণ্য জবাব প্রত্যাশিত ছিল। প্রশ্ন উত্থাপনকারী সংবাদকর্মীদের প্রতি ক্ষোভ ও বিদ্বেষমূলক পাল্টা প্রশ্ন একজন প্রতিমন্ত্রীর জন্য শোভনীয় নয়। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সংবাদকর্মীদের মধ্যে ‘চিলিং ইফেক্ট’ বা ভীতির পরিবেশ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

টিআইবি অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রকৃত অবস্থা এবং নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতা সম্পর্কিত প্রামাণ্য তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভার অন্য কোনো সদস্যের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় থাকলে সেটিও স্পষ্ট করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করা হুমায়ুন কবির মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন ও উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং লেবার পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *