বর্ষাকালে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এসি ছাড়া থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এয়ার কন্ডিশনার বা এসিই কি বারবার হাঁচি, কাশি ও নাক বন্ধ হওয়ার জন্য দায়ী?
বিশেষজ্ঞরা জানান, এসি সরাসরি অ্যালার্জি সৃষ্টি করে না। তবে যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসির পরিবেশ উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। মূল সমস্যা সাধারণত ঠান্ডা বাতাস নয়; বরং এসির সঙ্গে ঘরে ছড়িয়ে পড়া ধুলা, পরাগরেণু, ছত্রাকসহ বিভিন্ন অ্যালার্জেন।
এসি কীভাবে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ায়?
অ্যালার্জি মূলত কম তাপমাত্রার কারণে হয় না। বরং অ্যালার্জেন নামের কিছু পদার্থ শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি করলে অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দেয়। অ্যালার্জেনের কারণে শরীরে প্রদাহ তৈরি হওয়ার পর ঠান্ডা বাতাস, ধোঁয়া, দূষণ বা শারীরিক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
চিকিৎসকের ভাষায়, অ্যালার্জেন শরীরকে সংবেদনশীল করে তোলে, আর বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ সেই উপসর্গকে প্রকাশ করে।
এসি নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা ফিল্টারে ধুলা, পরাগরেণু ও অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা জমে থাকে। পরে এসি চালু করলে সেগুলো আবার ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসির আশপাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকলে ছত্রাকও জন্মাতে পারে।
এসব অ্যালার্জেনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বারবার হাঁচি, নাক বন্ধ বা দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো, কাশি ও গলা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসও সমস্যা করতে পারে
দীর্ঘ সময় এসিতে থাকার আরেকটি সমস্যা হলো বাতাসের শুষ্কতা। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা থাকলে নাক ও গলার ভেতরের অংশ শুকিয়ে গিয়ে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই থাকা অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ আরও তীব্র মনে হতে পারে।
আবার ঘর অতিরিক্ত আর্দ্র রাখাও ভালো নয়। এতে ছত্রাক ও ডাস্ট মাইট বা ধুলার ক্ষুদ্র জীবের বংশবৃদ্ধি হতে পারে। তাই ঘরকে যতটা সম্ভব ঠান্ডা করার পরিবর্তে আরামদায়ক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি।
বাইরে গরম, ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডা—সমস্যা কোথায়?
অফিস বা গাড়ির ভেতরে খুব ঠান্ডা পরিবেশ থেকে হঠাৎ বাইরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বের হওয়া শ্বাসনালির জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের তাপমাত্রার দ্রুত পরিবর্তনে কাশি বা নাকে জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। তবে এটি অ্যালার্জি তৈরি হওয়ার সঙ্গে এক বিষয় নয়।
এসির কারণে সমস্যা হচ্ছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গের ধরন ও সময়ের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা এসি চালিত অফিসে থাকার পর হাঁচি, কাশি বা নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা শুরু হলে ঘরের পরিবেশ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় এসি চালিত গাড়িতে থাকলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে এসি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত এসি ফিল্টার পরিষ্কার করা, ঘর ধুলামুক্ত রাখা, স্যাঁতসেঁতে জায়গা বা ছত্রাক আছে কি না পরীক্ষা করা এবং খুব কম তাপমাত্রায় এসি না চালানো—এসব অভ্যাস উপকারী হতে পারে। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রাখা জরুরি।
বারবার হাঁচি, কাশি বা নাকের সমস্যা হলে সবসময় এসিকে দায়ী না করে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না খুঁজে দেখা উচিত। এসব উপসর্গ নিয়মিত ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বিশেষ করে শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ, শ্বাস নিতে কষ্ট বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ এসির কারণে হওয়া অস্বস্তি মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমারসিলেট/হা



