প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে গন্তব্যভিত্তিক বিয়ে এবং সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তান সফর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন মোদি।
ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থায় নানা সংকটের মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
এই প্রবৃদ্ধিকে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখনও ভারত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
মোদি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির পরও বিশ্ব অর্থনীতিতে পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফেরেনি। এর মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত চলছে এবং সরবরাহব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি দেশের সক্ষমতারই প্রমাণ।
অর্থনীতির এই গতি ধরে রাখতে দেশবাসীকে স্থানীয় পণ্য ও সেবা ব্যবহারের আহ্বান জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দেশের মানুষ যত বেশি দেশীয় পণ্য ও সেবা ব্যবহার করবে, ভারতের অর্থনীতি তত বেশি শক্তিশালী হবে।
বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন বাড়ানোর ওপরও জোর দেন মোদি। তিনি বিদেশে গন্তব্যভিত্তিক বিয়ে আয়োজন না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকতে বলেন তিনি।
মোদি বলেন, ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ ধারণাকে উৎসাহিত করা উচিত। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে পারলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে আগামী প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগেও চলতি বছরের মে মাসে বৈশ্বিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছিলেন মোদি। তখনও তিনি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়, গণপরিবহন ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিয়েছিলেন।



