কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর ওপর দিয়ে বজ্রসহ শক্তিশালী ঝড় বয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সংঘটিত ঝড়ে মুষলধারে বৃষ্টি, তীব্র বাতাস ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টি হয়, যার ফলে কিছু এলাকায় টর্নেডো সতর্কতা ও সতর্কবাণী জারি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝড়ের কারণে বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রোর সূত্রমতে, বুধবার রাত ৮টা থেকে (বৃহস্পতিবার ০০:০০ জিএমটি) অন্তত ৪৫ হাজার গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ঝোড়ো বাতাসের দাপটে শহরের একাধিক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিবাহী তারগুলোও ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া ভারী বর্ষণে শহরের ব্যস্ততম ডন ভ্যালি পার্কওয়েসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেক যানবাহন প্রায় নিমজ্জিত অবস্থায় আটকে থাকতে দেখা যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। টরন্টোর ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় অবস্থিত মাইকেল গ্যারন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্ধারিত ডজন ডজন ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, বুধবার সকাল থেকে শহরের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শহরের কর্মীরা ইতোমধ্যেই ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার, উপড়ে পড়া গাছ, বন্যা এবং আরও অনেক কিছুর মোকাবিলায় মাঠে নেমেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, টরন্টো ট্রানজিট কমিশন, যারা সাবওয়ে এবং বাস পরিচালনা করে, প্রচণ্ড বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তারা পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে।
কানাডার আবহাওয়া সংস্থা, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তীব্র বজ্রঝড়ের জন্য জারি করা কমলা সতর্কতা তুলে নিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম অন্টারিও প্রদেশের কিছু অংশে তাপপ্রবাহ এবং তীব্র বজ্রঝড়ের জন্য জারি থাকা হলুদ সতর্কতা বহাল রয়েছে।
দেশটির শহর কর্তৃপক্ষ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর দুর্যোগকবলিত বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হতে এবং সাবধানে চলাফেরা করার নির্দেশ দিয়েছে।



