চার দশক পর আখাউড়া–সিলেট রেলপথে বড় সংস্কার, ব্যয় ১,৭৯১ কোটি টাকা

চার দশক পর আখাউড়া–সিলেট রেলপথে বড় সংস্কার, ব্যয় ১,৭৯১ কোটি টাকা

দীর্ঘ তিন থেকে চার দশকে বড় ধরনের সংস্কার বা পুনর্বাসন হয়নি আখাউড়া–সিলেট রেলপথে। পুরোনো রেল, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার ও ফিটিংসের ঘাটতির পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যালাস্ট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রেলপথটির কাঙ্ক্ষিত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ট্রেনের গতি সীমিত করে চালানোর প্রয়োজনও দেখা দিয়েছে।

এবার দীর্ঘদিনের এই সমস্যা কাটাতে বড় ধরনের পুনর্বাসন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথের সঙ্গে আখাউড়া–সিলেট ও সিলেট–সাটিয়াজুড়ী সেকশনকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রায় ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জীর্ণ রেলপথের অবস্থা অনেকটাই বদলাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সেকশনের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় আখাউড়া–সিলেট ও সিলেট–সাটিয়াজুড়ী সেকশনে প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো রেল ও স্লিপার পরিবর্তন, ক্ষতিগ্রস্ত ফিটিংস প্রতিস্থাপন এবং ব্যালাস্ট সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পের মূল ট্র্যাক-সংক্রান্ত কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পুরোনো রেলপথের বিভিন্ন অংশে রেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় স্লিপার অকেজো বা ক্ষতিগ্রস্ত। ফিটিংসের ঘাটতির পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যালাস্ট না থাকায় ট্র্যাকের কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও রেলপথের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনের গতি কমিয়ে চালানোর প্রয়োজন দেখা দেয়। আখাউড়া–সিলেট রেলপথেও দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো হয়। তবে জনবল সংকটের কারণে সব সেকশনে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে রাজস্ব বাজেটের সীমিত অর্থের বাইরে গিয়ে পৃথক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরোনো রেলপথ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. তানভিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথকে নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনর্বাসন করা।

তিনি বলেন, যোগ্য ও সক্ষম ঠিকাদারেরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। রেলপথের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২১
  • ১১:৫৪
  • ৪:১৯
  • ৬:০৯
  • ৭:২৪
  • ৫:৩৫