বনজ কুমার মজুমদার বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সাবেক প্রধান।
বনজ কুমার মজুমদার বিসিএস পুলিশ প্রশাসনের ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে তিনি সেবামূলক কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) লাভ করেন।
আলোচিত তদন্ত ও ভূমিকা
পিবিআই প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে আলোচনায় আসেন।
এটা হলো বনজ কুমারের পোশাকী বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়। এর বাইরে সচেতন মহলের কাছে তিনি ছিলেন দেশের শীর্ষ দশ কুখ্যাত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের একজন। র’ এর আশির্বাদপুষ্ট ছিলেন। ছিলেন ভারতের নাগরিকত্বের অধিকারী। তা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে খোদ প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরশাসক হাসিনা বলতেন, ‘তাকে ডিস্টার্ব করোনা’। এরপর কারোর আর কিছু বলার ছিলো। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বনজ হয়ে উঠেছিলো তার নিজের, তার চরম দুর্নীতিবাজ ভাইয়ের এমনকি তার গোটা পরিবারের জন্য ফলদ অর্থাৎ সম্পদের খনি।
তার অপকর্মের সাথে জড়িয়ে আছে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা এবং সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রীর হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলা। হাসিনার আমলে প্রায় নিরাপদ থাকলেও ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করা হয় এবং তার নাগরিকত্ব বা পূর্বের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের নতুন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলা। ভারত, আওয়ামী লীগ আর সুশীল সমাজের জন্য এই কেইস ছিল কাচ্চি বিরিয়ানির মত৷
এই কেইস দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা আর ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিশাল হইচই ফেলে দেয়া যাবে৷ দায়িত্ব দেয়া হল ভারতের নাগরিক তৎকালীন পিবিআই প্রধান বনজ কুমারকে। এই বনজ কুমার এসপি বাবুল আক্তার কেইসেও জড়িত ছিলেন।
সুশীল মিডিয়া আর লীগ পন্থী সাংবাদিকরা ফলাও করে এমন সব রিপোর্ট করলেন যে, পুরো জনমত তখন মাদ্রাসার বিপক্ষে৷ এর সুযোগ নিয়ে বনজ কুমার পিবিআইকে ব্যবহার করে সাজানো চার্জশিট তৈরি করেন। সরকারের নির্দেশে তখন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ, ১৬ জন আসামিকেই ফাঁসির আদেশ দেন।
১৬ জন আসামীকেই নিরপরাধ দাবী করে, এই মামলার রায় চ্যালেঞ্জ করে করা ইলিয়াস হোসাইন এর অনুসন্ধানী সাহসী রিপোর্টটাই সবার চিন্তাভাবনার স্রোত পালটে দেয়। ইলিয়াস হোসাইন এর দাবী ছিল,
– নুসরাত হত্যা কেইসটা সাজানো, ১৬ জনই নির্দোষ
– নুসরাত পরপুরুষ এ আগ্রহী ছিল
– বনজ কুমার পুরো কেইস সাজিয়েছেন
– নুসরাত অন্যদের ফাঁসাতে আত্মহত্যা করেছে
১৬ জন আসামীর পক্ষে কেইসটা লড়েছেন তাজুল ইসলাম, শিশির মনিরসহ কয়েকজন আইনজীবী।
হাইকোর্ট, ঢালাওভাবে ১৬ জনকে ফাঁসি দেয়ায় নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন। আর ১৬ জনের মধ্যে ৪ জনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন আর ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন।
ইলিয়াস হোসাইন এর দাবী আংশিক প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুর আগে দেয়া নুসরাত এর জবানবন্দির কারণে আত্মহত্যা প্রমাণ করা যায়নি৷ নুসরাত এর চরিত্র নিয়ে তোলা অভিযোগগুলোও চাপা পড়ে গেছে। ইলিয়াস অবশ্য বলছেন, সঠিক তদন্ত করলেও বাকিটুকুও প্রমাণিত হবে৷ ১০ জন নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে, এটাও অবশ্য কম অর্জন নয়৷
এই মামলার রায়ের সবচাইতে মর্মান্তিক দিক ছিল, কামরুন্নাহার মনি সাজার সময় প্রেগন্যান্ট ছিলেন।
ফাঁসির রায় হওয়ার পর মনি কারাগারেই সন্তানের জন্ম দেন। সেই সন্তানের বয়স এখন ৬ বছর।
এই নিরপরাধ ১০ জন যে জীবনের ৭ বছর জেলে কাটাল, তার দায় কার? মনির ৭ বছরের দাম্পত্য আর মনির সন্তানের ৬ বছরের শৈশব ধ্বংস করে দেয়ার পিছনে দায় কার?
যেসব সুশীল আর সাংবাদিক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সবার উপরে দোষ চাপিয়ে জনমত তৈরি করেছিলেন, তাদের কি সাজা হবে? পিবিআই এর যেসব কর্মকর্তা সাজানো চার্জশিট তৈরি করেছিলেন, তাদের কি সাজা হবে?
বনজ কুমারের বিরুদ্ধে কি কোন অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে?
ইসলাম জঙ্গীবাদ চাষ করে, এই কনসেপ্ট প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শেখ হাসিনাই মূলত সবাইকে ফাঁসি দেয়ার জন্য দায়ী। বনজ কুমারকে জিজ্ঞেস করেন, সে একই কথা বলবে৷ আর এধরণের কেইসে ভারতের চাপও আপনি উড়িয়ে দিতে পারবেন না৷ সরকারের প্রত্যেকটা দপ্তরে র’ এর প্রভাব ছিল৷
চাঞ্চল্যকর সবগুলো মামলার রায়ই দেয়া হত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে। ইসলামে জঙ্গীবাদ প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই গুলশান হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল৷ জাহাজ বাড়ি হত্যাকাণ্ডের কারণও একই। শত শত আলেমকে কারাবন্দী করে রিমান্ডে নেয়াও একসূত্রে গাঁথা।
অবিচার আর দু:শাসনের প্রতীক এই মহিলা নাকি আবার হিজাব পরে, তাসবিহ হাতে ঘুরতেন আর তাহাজ্জুদ নামাজ ছাড়া ঘুমাতেন না।
আমরা চাই না, নির্দোষ একজনেরও সাজা হোক। আবার অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যাবে, এটাও কেউ চাই না। সন্দেহের অবকাশ থাকলে এই কেইস নিয়ে আরো বিস্তারিত তদন্ত হোক।
রাজধানীর ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ি (প্লট নম্বর ৫৭)। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরকারি বাসভবনের পাশেই এর অবস্থান।
রাজধানীর ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ি (প্লট নম্বর ৫৭)। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরকারি বাসভবনের পাশেই এর অবস্থান। পুরনো তিনতলা সাদা রঙের এ বাড়িতে একসময় অফিস করতেন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের আলোচিত লুটেরা প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)। দেশের চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার থেকে যিনি ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাট করে ভারত পালিয়ে যান।
পিকে হালদারের রেখে যাওয়া অফিসের হাল ধরেছেন আলোচিত সাবেক সচিব মিহির কান্তি মজুমদার। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরকারের সাবেক এ আমলা নিয়মিতই ধানমন্ডির ওই বাড়িতে অফিস করছেন। মিহির কান্তি মজুমদারের আপন ছোট ভাই আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বনজ কুমার মজুমদার। বড় ভাইয়ের মতো সাবেক এ অতিরিক্ত আইজিপির বিরুদ্ধেও আছে গুরুতর অভিযোগ। দেশের স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি তৎপরতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে বনজের বিরুদ্ধে।
সংজ্ঞার বিবেচনায় পিকে, মিহির ও বনজ—তিনজনই হোয়াইট কলার অপরাধী। ‘হোয়াইট কলার অপরাধ’ শব্দটিতে ব্যক্তি, ব্যবসা ও সরকারি পেশাজীবীদের মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিকভাবে অনুপ্রাণিত, অহিংস বা অপ্রত্যক্ষভাবে সহিংস অপরাধকে বোঝায়। অপরাধগুলো আর্থিক লাভের জন্য মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংঘটিত বলে বিবেচনা করা হয়।
দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও বণিক বার্তার নিজস্ব অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, পিকে, মিহির ও বনজ একই চক্রের সদস্য। প্রতিটি আর্থিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা ছিলেন একে অপরের সহযোগী। এ চক্র দেশের ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজার, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ লোপাট করেছে। লোপাটকৃত সেই অর্থ ব্যবহার হয়েছে স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি তৎপরতায়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে তাদের। এ নেটওয়ার্কে দেশের প্রভাবশালী আরো বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাও যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পিকে হালদার ভারতে পালিয়ে যান ২০২২ সালের মে মাসে। এরপর তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। জামিনে বের হয়ে পিকে হালদার এখন কলকাতায় রাজকীয় জীবন যাপন করছেন। তার পথ অনুসরণ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা বনজ কুমার মজুমদারও। গত বছরের ৩০ জুলাই অবসরে যাওয়ার পর পরই বিদেশে পাড়ি জমান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সাবেক এ প্রধান। তবে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মিহির কান্তি মজুমদার। আলোচিত এ তিন ব্যক্তিরই পাসপোর্ট বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত মিহির কান্তি মজুমদার বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমি দখলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এ কাজে ব্যবহার করেছেন ভাই বনজ কুমার মজুমদারের ক্ষমতা। গড়েছেন বাংলো বাড়ি, মাছের ঘের, গরুর খামার, ঢাকায় একাধিক প্লট-ফ্ল্যাট, হাউজিং কোম্পানিসহ আরো অনেক কিছু। স্ত্রী গীতা রানী মজুমদারের নামেও রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।
মিহির কান্তি মজুমদারের মতোই সরকারি চাকরিতে থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়েছেন তার ছোট ভাই বনজ কুমার মজুমদার। তাকে ভারতে স্বর্ণ চোরাচালানের অধিপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেয়ার পর কর্মজীবনের বড় অংশই তিনি কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে। পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, চাকরিকালে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে বনজ কুমার মজুমদারের। পরবর্তী সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় এ স্বর্ণ পাইকারি বাজারের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন তিনি। তার নেতৃত্বে দেশ থেকে কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে স্বর্ণ পাচার করা হতো।
প্রভাবশালী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে দ্রুততম সময়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবেও পদোন্নতি পান বনজ কুমার। এরপর টানা আট বছর নেতৃত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। এ সময়ের মধ্যে স্বর্ণ চোরাচালানের টাকায় ঢাকার পাশাপাশি বরগুনা ও কুষ্টিয়ায় বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি। তবে এতসব অবৈধ সম্পদের মালিক হলেও বনজ কুমারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। স্বর্ণ চোরাচালান, হুন্ডিসহ নানা অনিয়মে যুক্ত থাকায় চলতি বছরের শুরুতে বনজ কুমারের পাসপোর্ট বাতিল করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, চট্টগ্রামে বনজ কুমারের বেশ কয়েকটি ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এ ট্রলারগুলোকে তিনি স্বর্ণ চোরাচালানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। পুলিশের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হওয়ায় বনজ কুমারের এসব ফিশিং ট্রলারকে কখনই তল্লাশির মুখে পড়তে হতো না।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অবসরে যাওয়ার পর বনজ কুমার মজুমদার কিছুদিন ভারতে ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন। স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডির অবৈধ টাকায় দেশে-বিদেশে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছেন। এর মধ্যে শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের রুমঘাটায় বনজ কুমারের বিলাসবহুল একটি বাড়ি রয়েছে।
সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এবং পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার-এর কর্মজীবনে মাহমুদা খানম মিতু এবং নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা দুটি সবচেয়ে আলোচিত এবং মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৬ সালে চট্টগ্রামে সংঘটিত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডটি দীর্ঘদিন এক প্রকার ক্লুলেস ছিল। পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
বনজ কুমার মজুমদারের নেতৃত্বে পিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার অবিশ্বাস্য এক মোড় উন্মোচন করে। খুনিদের সাথে তৎকালীন এসপি এবং মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারের সরাসরি আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের প্রমাণ হাজির করে পিবিআই। একজন ক্ষমতাধর সহকর্মীর বিরুদ্ধে গিয়ে এমন তদন্ত করা ও তাকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে তখন পিবিআই-এর একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত চলাকালীন এবং পরবর্তীতে বনজ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। কারাবন্দী বাবুল আক্তার অভিযোগ করেন যে, বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশে তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাবুল আক্তার পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদনও করেছিলেন (যা পরবর্তীতে আদালত খারিজ করে দেন)। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়।



