সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদনস্থলে পানিতে নেমে গত নয় মাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সিলেট নগরের একটি সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। একের পর এক এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।
সর্বশেষ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের চৌকিদিখি এলাকার ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সাঁতার কাটার সময় পানিতে তলিয়ে যান দীপাঞ্জন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান।
এর আগে গত ১৫ মে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে মারা যান শাবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত বণিক (২২)।
জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন জলাশয়ে গোসল করতে নামেন শান্ত। একপর্যায়ে পানির তীব্র স্রোত ও গভীরতায় তলিয়ে যান তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। শান্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের লালাখালে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান শাবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। গোসল করতে পানিতে নামার পর তিনি ডুবে যান। মুসআব সাঁতার জানতেন না। তিনি ও শান্ত বণিক দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোকাহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে হারানো শাবিপ্রবির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শিক্ষার্থীদের অপরিচিত জলাশয়ে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সাঁতার কাটার সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং পানির গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে পানিতে না নামা জরুরি।



