সিলেটে রেমিট্যান্স আসে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা থাকে?

সিলেট বিভাগে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিভাগটি পেয়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ওই মাসে দেশে আসা মোট ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ এসেছে সিলেটে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর বিভাগভিত্তিক রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে সিলেটের অবস্থান তৃতীয়।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ বলছে, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মাত্র ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেট বিভাগে। আট বিভাগের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।

 

অর্থপ্রবাহ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই দুই চিত্রের মধ্যে একটি ব্যবধান দেখা যায়। তবে রেমিট্যান্সের অর্থ সিলেটে কতটা ব্যবসা, শিল্প বা অন্য কোনো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে, তার সরাসরি ও সাম্প্রতিক বিভাগ বা জেলাভিত্তিক সরকারি হিসাব নেই। প্রকাশিত সরকারি তথ্য ও গবেষণা থেকে সেই ব্যবধানটি কতটা, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এতে কোনো মাঠজরিপ বা সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়নি।

 

বাড়ছে সিলেটের রেমিট্যান্স

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ ২০১৬ সালের জুন থেকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের হিসাব রাখছে। এতে প্রেরকের নিজ জেলার তথ্যও রয়েছে।

 

ব্যাংকটির Monthly Report on Workers’ Remittance Inflows-এর সংযুক্তি-৪ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিলেট বিভাগে এসেছে ২৫৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ অঙ্ক ছিল ১৬৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

 

একই সময়ে সারা দেশে রেমিট্যান্স ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ ডলারে।

 

সর্বশেষ মাসগুলোর হিসাবেও বিভাগভিত্তিক রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে সিলেট তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে বিভাগটি পেয়েছে ৩০ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা ওই মাসের মোট রেমিট্যান্সের ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাসে এই হিস্যা ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

 

তবে দীর্ঘ সময়ের হিসাবে সিলেটের রেমিট্যান্সের অংশ জাতীয় মোটের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জাতীয় রেমিট্যান্সের ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ এসেছিল সিলেট বিভাগে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এ হিস্যা ছিল ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

 

অর্থাৎ সিলেটে রেমিট্যান্স কমছে না। বরং জাতীয় রেমিট্যান্সের তুলনায় এর প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর।

 

সিলেট জেলার হাতেই অর্ধেকের বেশি

 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিলেট বিভাগের ২৫৪ কোটি ৩২ লাখ ডলারের মধ্যে সিলেট জেলা একাই পেয়েছে ১৩৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এটি বিভাগের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ।

 

মৌলভীবাজার পেয়েছে ৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বা ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। সুনামগঞ্জ পেয়েছে ৩২ কোটি ২৯ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং হবিগঞ্জ পেয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

 

তবে বৃদ্ধির হারে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সুনামগঞ্জে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৫৮ শতাংশ, সিলেটে ৪৮ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৩৮ শতাংশ।

 

অর্থাৎ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স পাওয়া সুনামগঞ্জেই ওই সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি।

 

জাতীয় অবস্থানেও সিলেট জেলা ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সিলেট জেলা পেয়েছে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ওই মাসে ঢাকায় এসেছে ১০৫ কোটি ৯৭ লাখ, চট্টগ্রামে ২০ কোটি ১৮ লাখ এবং কুমিল্লায় ১৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।

 

জুলাইয়ে বিভাগের অন্য তিন জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার পেয়েছে ৪ কোটি ৪৯ লাখ, হবিগঞ্জ ৩ কোটি ৫৮ লাখ এবং সুনামগঞ্জ ৩ কোটি ৮ লাখ ডলার।

 

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের হিসাব করে প্রেরকের নিজ জেলার ভিত্তিতে, টাকা যেখানে শেষ পর্যন্ত খরচ হয় সেই জেলার ভিত্তিতে নয়। ফলে লন্ডনপ্রবাসী কোনো সিলেটির পাঠানো অর্থ ঢাকায় থাকা স্বজনের হিসাবে জমা হলেও সেটি সিলেটের হিসাবেই যুক্ত হবে। সিলেটের নামে রেকর্ড হওয়া অর্থের কত অংশ বাস্তবে সিলেটে গিয়ে খরচ বা বিনিয়োগ হয়, প্রকাশিত সরকারি তথ্যে তা জানা যায় না।

 

রেমিট্যান্স বাড়লেও অর্থনৈতিক ইউনিট কম

 

রেমিট্যান্সের প্রবাহের সঙ্গে সিলেটের স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র মিলিয়ে দেখতে সবচেয়ে সাম্প্রতিক বড় সরকারি উৎস হলো বিবিএসের অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪।

 

শুমারি অনুযায়ী, দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিট প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে প্রায় ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৭ দশমিক ৫১, রাজশাহীতে ১৪ দশমিক ৩৬, খুলনায় ১২ দশমিক ৭৩, রংপুরে ১১ দশমিক ৪১, ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৬৩ এবং বরিশালে ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

 

সিলেটে রয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আট বিভাগের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন।

 

এই সংখ্যা সিলেটে বিনিয়োগের পরিমাণ সরাসরি নির্দেশ করে না। কারণ অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা এবং বিনিয়োগের অর্থমূল্য এক বিষয় নয়। তবু রেমিট্যান্সপ্রাপ্তির তুলনায় স্থানীয় অর্থনৈতিক ইউনিটের অংশ কতটা, সে বিষয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

 

রেমিট্যান্স কোথায় যায়, তার হিসাব পুরনো

 

রেমিট্যান্স কোন খাতে ব্যবহার হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশে সরকারি জরিপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো বিবিএসের Survey on Investment from Remittance (SIR) 2016। তবে জরিপটির তথ্যবর্ষ ২০১৫। ফলে এটিকে বর্তমান সিলেটের চিত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

 

ওই জরিপের বিভাগভিত্তিক তথ্য, যা ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় পুনর্মুদ্রিত হয়েছে, অনুযায়ী রেমিট্যান্সগ্রহীতা প্রতি পরিবারে সিলেটে গড় বিনিয়োগ ছিল ৭৫ হাজার ২৮৮ টাকা। সঞ্চয় ছিল ২৭ হাজার ৫৭০ টাকা এবং নির্বাচিত খাতে ব্যয় ৫৬ হাজার ৯৬৩ টাকা।

 

জাতীয় গড় ছিল যথাক্রমে ৭৬ হাজার ৫৪৭, ২৫ হাজার ৩৮৬ এবং ৭৩ হাজার ৮৭৯ টাকা। সঞ্চয়ের অঙ্কে সিলেট ছিল বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

তবে বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও নির্বাচিত ব্যয় একসঙ্গে বিবেচনা করলে রেমিট্যান্সের অনুপাতে সিলেটের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জাতীয় গড় ছিল ৫৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রংপুরে ৭২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

 

এখানে ‘বিনিয়োগ’ শব্দটির সংজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ। ওই জরিপে জমি কেনা, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা, স্বর্ণ ও অলংকার কেনা এবং ঋণ পরিশোধও বিনিয়োগের মধ্যে ধরা হয়েছে। ফলে এই হিসাবকে সরাসরি শিল্প, ব্যবসা বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগের পরিমাণ হিসেবে পড়ার সুযোগ নেই।

 

জরিপে আরও বলা হয়েছিল, জাতীয়ভাবে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২২ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে দেশে আসে। তবে সিলেটের জন্য আলাদা হিসাব সেখানে নেই।

 

স্থানীয় ঋণ কম, কিন্তু কারণ রেমিট্যান্স কি না বলা যায় না

 

সিলেটের স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বোঝার আরেকটি সূচক হলো ব্যাংকের আমানত ও ঋণের অনুপাত।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের Scheduled Banks Statistics অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সিলেট বিভাগে ঋণ-আমানত অনুপাত ছিল ০ দশমিক ২৬। অর্থাৎ ব্যাংকে জমা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ২৬ টাকা।

 

একই সময়ে ঢাকায় এই অনুপাত ছিল ০ দশমিক ৯৬, রাজশাহীতে ০ দশমিক ৮৮, খুলনায় ০ দশমিক ৮২, ময়মনসিংহে ০ দশমিক ৭৭, চট্টগ্রামে ০ দশমিক ৭৩ এবং বরিশালে ০ দশমিক ৫৬। জাতীয় গড় ছিল ০ দশমিক ৮৭।

 

আগের বছরগুলোতেও সিলেটে অনুপাতটি কম ছিল। ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বিভাগটিতে ব্যাংক আমানত ছিল প্রায় ৪৫ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ ছিল ১১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। অনুপাত ছিল প্রায় ০ দশমিক ২৪।

 

তবে এই অনুপাত দিয়ে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না। নিজস্ব অর্থে করা দোকান, ভবন, জমি বা অন্য কোনো বিনিয়োগ ব্যাংকঋণের হিসাবে আসে না। একইভাবে ব্যাংকের আমানতের মালিক স্থানীয় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী নাকি প্রবাসী, এই তথ্যও এই অনুপাত থেকে জানা যায় না।

 

যা বলা যায়, তা হলো সিলেটে ব্যাংকে থাকা আমানতের তুলনায় স্থানীয়ভাবে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম।

 

রেমিট্যান্স ও শিল্পায়নের সম্পর্ক নিয়ে তথ্যের ঘাটতি

 

সিলেটে রেমিট্যান্স ব্যবহারের ওপর সরাসরি গবেষণা তুলনামূলকভাবে কম এবং বিদ্যমান অনেক গবেষণাই পুরনো।

 

ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের ২০১০ সালের একটি কর্মপত্রে সিলেট অঞ্চলে স্থানীয় তহবিলের ব্যবহার এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সিলেটের শিল্প নিয়েও পুরনো গবেষণায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেটের ২০০৯ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে শিল্পঋণের বিভিন্ন হিসাব প্রকাশ করা হয়েছিল।

 

তবে এসব তথ্য এক যুগের বেশি পুরনো। ফলে এগুলোকে বর্তমান সিলেটের শিল্প বা বিনিয়োগ পরিস্থিতির সরাসরি প্রতিচ্ছবি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

 

দারিদ্র্যের চিত্রও ভিন্ন প্রশ্ন তোলে

 

২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক প্রকাশ করে। সেখানে সিলেট বিভাগের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। জাতীয় হার ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। দারিদ্র্যের তীব্রতার হারও সিলেটে ৪৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

 

তবে এই সূচক তৈরি হয়েছে ২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের (MICS) তথ্যের ভিত্তিতে। ফলে ২০২৫ সালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এটি মূলত ২০১৯ সালের পরিস্থিতি তুলে ধরে।

 

তাই রেমিট্যান্সের পরিমাণের সঙ্গে এই দারিদ্র্যের তথ্য পাশাপাশি রাখা যায়, কিন্তু একটি অন্যটির কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এতে নেই।

 

সিলেটে বিনিয়োগের বাধা নিয়ে যা বলা হয়েছে

 

২০২৬ সালের ১১ আগস্ট সিলেটে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও সানেমের উদ্যোগে Survey of Industries শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাসস ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মশালায় বিডার কর্মকর্তারা শিল্পসংক্রান্ত তথ্যের অসামঞ্জস্য, নিবন্ধনের পর দুর্বল অনুসরণ এবং সক্রিয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সীমিত তথ্যের কথা তুলে ধরেন।

 

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সিলেটে শিল্পবিকাশের বাধা হিসেবে স্বল্পসুদে অর্থায়নের অভাব, বন্দর যোগাযোগের দুর্বলতা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত জটিলতার কথাও বলেন।

 

তবে এগুলো অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য। এগুলো কোনো পরিসংখ্যানগত পরিমাপ নয়। তাই এসব কারণকে সিলেটের বিনিয়োগ কম হওয়ার প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের চিহ্নিত করা সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত।

 

যে তথ্যটি সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত

 

বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আসার হিসাব নিয়মিত রাখে। কিন্তু সেই অর্থের পরবর্তী ব্যবহার সম্পর্কে একই মাত্রার বিস্তারিত তথ্য নেই।

 

সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো দেশ ও জেলার তথ্যকে একসঙ্গে না পাওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশভিত্তিক এবং জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু কোন দেশ থেকে কোন জেলায় কত অর্থ এসেছে, তার সমন্বিত সারণি প্রকাশিত হয় না।

 

ফলে সিলেটের রেমিট্যান্সের কত অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশ থেকে আসে, প্রকাশিত সরকারি সারণি থেকে সরাসরি জানা যায় না।

 

জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্স ব্যয়ের তথ্যও নেই। বিবিএসের রেমিট্যান্স ব্যবহারসংক্রান্ত জরিপ বিভাগভিত্তিক হলেও সেটি ২০১৫ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

 

এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে বিনিয়োগের ধারাবাহিক সরকারি তথ্যও সীমিত। অর্থনৈতিক শুমারি অর্থনৈতিক ইউনিট গণনা করে, কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের মূলধনের উৎস রেমিট্যান্স, ব্যাংকঋণ নাকি অন্য কোনো উৎস, তা আলাদা করে দেখায় না।

 

জমি হস্তান্তরের দলিলের তথ্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে থাকলেও সেগুলো নিয়মিত জেলা বা বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান হিসেবে প্রকাশিত হয় না। ফলে রেমিট্যান্সের অর্থ জমি বা স্থাবর সম্পদে কতটা যাচ্ছে, সেটিও সরকারি প্রকাশিত তথ্য থেকে সরাসরি মাপা যায় না।

 

তাহলে কী বলা যায়?

 

প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সিলেট দেশের অন্যতম বড় রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত অঞ্চল। ২০২৬ সালের জুলাইয়েও বিভাগটি জাতীয় মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯ শতাংশ পেয়েছে।

 

অন্যদিকে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এ দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মাত্র ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ সিলেটে। ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাতও জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম।

 

পুরনো সরকারি জরিপে রেমিট্যান্সগ্রহীতা পরিবারের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি চিত্র পাওয়া যায়। কিন্তু সেই বিনিয়োগের বড় অংশ কী পরিমাণ উৎপাদনশীল ব্যবসা বা শিল্পে গেছে, তা আলাদাভাবে জানা যায় না।

 

তাই প্রকাশিত তথ্য দিয়ে বলা যায় না যে সিলেটে রেমিট্যান্সের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে না। বরং বলা যায়, রেমিট্যান্সের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগের সম্পর্ক মাপার মতো সাম্প্রতিক ও সমন্বিত সরকারি তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

 

সিলেটে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু সেই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা ব্যবসা, শিল্প বা উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে, তার সরাসরি উত্তর সরকারি পরিসংখ্যানে নেই।

 

আর এই অনুপস্থিতিটিই সিলেটের রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে বোঝার সবচেয়ে বড় তথ্যগত সীমাবদ্ধতা।

 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের Monthly Report on Workers’ Remittance Inflows, জেলাভিত্তিক রেমিট্যান্স সারণি ও Scheduled Banks Statistics; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ ও Survey on Investment from Remittance (SIR) 2016; পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক; বিএমইটি; এবং দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বণিক বার্তা, দ্য ফাইন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস ও বাসসের প্রকাশিত প্রতিবেদন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩১
  • ১১:৪৫
  • ৪:০০
  • ৫:৪৩
  • ৬:৫৬
  • ৫:৪৩