ইদানিং সিলেট নগরীতে মশার অত্যাচার ও জ্বালাতন সীমা ছাড়িয়েছে, এমন অভিযোগ অনেকের। তাই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারার পদক্ষেপ নিয়েছে সিসিক। বিষয়টি প্রশংসনীয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফগার মেশিন অপারেটরদের মাস্ক ছাড়াই মশার ওষুধ স্প্রে করতে দেখা যায়। আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর রায়নগর ও এর আশপাশের কিছু এলাকায় এই কাজটি করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে নগরবাসীর কিছু জানা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্ক ছাড়া এটা ব্যবহার করা যেমন ক্ষতিকর তেমনি স্প্রে করার সময় ছোট্ট ছেলে মেয়ে কিংবা বয়সী ও অসুস্থ মানুষের বাইরে থাকা উচিত নয়। ফগার মেশিনে যে ধোঁয়া বের হয়, ওটা হলো ডিজেল/কেরোসিনের সাথে ম্যালাথিয়ন বা ডেল্টামেথ্রিন নামের বিষ মেশানো। ধোঁয়াটা মশার গায়ে লাগলে মশা সাথে সাথে মরে যায়, বিশেষ করে উড়ন্ত মশা। তাই ধোঁয়া দেখার পর মনে হয় “বাহ্, মশা শেষ!”
তবে ফগারে শুধু বড় মশা মরে। বাসা বাড়ির ফুলের টব, ড্রেন, ছাদের পানি, ওখানে যে হাজার হাজার লার্ভা আছে, ওগুলো মরে না। ২ দিন পর ওগুলোই আবার বড় মশা হয়ে উড়ে।
ধোঁয়া বাতাসে ২০-৩০ মিনিট থাকে। এরপর বিষ শেষ। পাশের এলাকা থেকে নতুন মশা আইসা আবার ঢুকে যায়।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন বেশিরভাগ সময় শুধু ডিজেল দিয়ে ধোঁয়া বানায়, ওষুধের পরিমাণ খুব কম দেয় খরচ বাঁচাতে। তাই ধোঁয়া আছে, গন্ধ আছে, মশা মরার হার কম। ফগারের সাথে সাথে লার্ভা মারার ওষুধ (টেমিফস) ড্রেনে দিতে হবে। ওটা না দিলে ফগার দিয়া কোনো লাভ নাই।
মোট কথা, ফগার মেশিন মশা মারে, কিন্তু শুধু ফগার দিয়ে মশা নির্মূল হয় না। এটা হইলো মশা মারার “মেকআপ”, আসল চিকিৎসা হইলো পানি পরিষ্কার রাখা।
ফগার মেশিনের ধোঁয়ায় দুইটা জিনিস থাকে: ডিজেলের ধোঁয়া ও কীটনাশক (ম্যালাথিয়ন/ডেল্টামেথ্রিন)। দুইটাই মানুষের জন্য বিষ।
ধোঁয়া নাকে গেলেই ফুসফুসে জ্বালাপোড়া। যাদের হাঁপানি/অ্যাজমা আছে, বাচ্চা আর বুড়া মানুষ, তাদের জন্য এটা খুব বিপজ্জনক। এতে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, মাথা ঘোরা — এটা সাথে সাথেই হয়।
ম্যালাথিয়ন শরীরে জমলে লিভার, কিডনির ক্ষতি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নিয়মিত এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে যারা ফগার মেশিন চালায়, তাদের মাস্ক ছাড়া চালানো একদম উচিত না।
ধোঁয়া দেখলেই বাচ্চা, মুরব্বি, গর্ভবতী মহিলারে ঘরে রাখতে হবে দরজা-জানালা ৩০ মিনিট বন্ধ করে। খাবার, পানির কলসি, বাসন — সব ঢেকে রাখতে হবে। ধোঁয়া খাবারে পড়লে বিষ হয়ে যাবে।
নিয়ম হলো, ফগার করতে হবে ভোর ৫টা বা সন্ধ্যা ৬টার পর, যখন মানুষ রাস্তায় কম থাকে, আর ৩০০ ফুট দূর থেকে মাইকিং করতে হবে। কিন্তু সিলেটে দেখবা, দুপুরে বাজারের মাঝে ফগার মারে, এটা পুরা বেআইনি।
তাই ফগার দেখলে ভাবা উচিত নয়, শুধুই মশা মরছে, ভাবতে হবে বিষও ছড়াচ্ছে।



