এমদাদ চৌধুরী দীপু, নিউইয়র্ক
সিলেটের প্রান্তিক জনপদ সম্পদের ভান্ডার আর পর্যটন এর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এখানে সরকারের পরিবর্তন হলেও নৈরাজ্য এবং লুটপাট বন্ধ হয়না। আওয়ামীলীগের আমলে ১৫/১৬ বছর এই উপজেলায় মরহুম বাছির চেয়ারম্যান এর দুই ছেলে শামীম এবং জয়নাল তাদের বাহিনী তৈরি করে পুলিশ, বিজিবি রাজনৈতিক নেতাদের ম‍্যানেজ করে মাসোহারা দিয়ে নিজেদের অর্থে বিত্তে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। অর্থের জোরে শামীম উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে নুন‍্যতম যোগ্যতা না থাকলেও শামীমের ভাই জয়নাল সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।


জুলাই বিপ্লব এর পর শামীম জয়নাল পালিয়ে কিছু দিন অতিবাহিত করেছে। কিন্তু গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে নানা কৌশলে।বিসময় তৈরী হয়েছে সকল মহলের মধ্যে যে শামীম পালিয়ে থাকার কথা সে ফেইসবুকে সক্রিয় আছে এবং দেশেই আছে ,সিলেট আছে। জয়নাল এবং তাদের পরিবার আছে দেশের ভিতরে। তাদের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের অপরাধ মুলক কাজের জন্য মামলা হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো বাদী পাওয়া যায়নি! তাদের অপরাধ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো শামীম তার সব ব‍্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাজার এর ইজারা, জলমহাল এর ব‍্যবসা আমদানি রপ্তানি সবই আগের মতো চলছে।এমন বাস্তবতায় জুলাই বিপ্লবের অংশীদার অনেকে মনে করছেন সিলেটে আওয়ামী নেতা শামীমের জমিদারিত্বে এখন প্রজা বিএনপি জামায়াত আর এনসিপি ।


সরকারের পতন হয়েছে। দলীয় প্রধান পালিয়ে গেছেন দেশ ছেড়ে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে দলের। প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা হয় কারাগারে নয়তো পলাতক। এমন অবস্থায়ও অপরাধের সাম্রাজ্য ও জমিদারিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম আহমদ। পাথরখেকো হিসেবে পরিচিত এই নেতা বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী আরিফুল হকের এলাকাতেই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসেনের চেষ্টা করছে। অনুগত বাহিনী দিয়ে করাচ্ছেন ঝটিকা মিছিল। আওয়ামী নেতার আওয়ামী নেতার জমিদারিত্বে ‘প্রজা’ হয়ে রয়েছে বিএনপি জামায়াত এনসিপি।

আওয়ামী আমলেই হত্যা মামলায় জেল খাটা শামীম এখন কীসের জোরে এতটা বেপরোয়া, এই প্রশ্ন সচেতন মহলের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী নেতার জমিদারি টিকিয়ে রাখা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী নেতার সাম্রাজ্য বিস্তারের পেছনে নিরব সায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির।

শামীম আহমদ এবং তার ভাই জেলা পরিষদ সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাল আহমদ কোম্পানীগঞ্জে তাদের পূর্বের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পালাবদল হলেও কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, হাটবাজারের ইজারা এবং টোল আদায়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ বিন্দুপরিমাণও কমেনি।

অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় কিছু শীর্ষ নেতৃত্বকে বিভিন্ন উপায়ে ম্যানেজ করে নিজের অবস্থান নিরাপদ করেছেন। বিশেষ করে বিএনপি নেতা শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

শামীম আহমদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার বা মিছিলে অংশ নেওয়ার ছবি-প্রমাণ থাকার পরেও পুলিশ প্রশাসন কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা বা মামলা নিচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রটি নিজেদের প্রভাব বলয় অক্ষুণ্ণ রাখছে।

শামীম পরিবারের নিয়ন্ত্রণে প্রায় দেড় থেকে আড়াইশো সশস্ত্র ও ক্যাডার প্রকৃতির মোটরসাইকেলধারী বাহিনী এখনও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভোলাগঞ্জ ও সীমান্ত এলাকার পাথর ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা, জলমহাল ইজারা এবং আমদানানির্ভর সব ধরনের ব্যবসায় তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রয়েছে। এরফলে সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন এখনো প্রকাশ্যে শোডাউন বা মিছিল করার সাহস পাচ্ছে।

এই সমগ্র পরিস্থিতির কারণে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাথরখেকো চক্রের পুরোনো সিন্ডিকেট ভেঙে না দেওয়ার কারণে এলাকায় এই অপরাধ চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের লেবাস বদল বা কৌশলগত সমঝোতার মাধ্যমে কোম্পানীগঞ্জের এই প্রভাবশালী চক্র এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে এবং পাথর সিন্ডিকেট ও ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেয়, তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *