লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে জিম্মি ও মারধরের শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী ও তাঁর স্ত্রী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে কৃষকদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রিয়াদ রায়পুর পৌর কৃষকদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী এবং রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলার অভিযোগে, তাঁর নেতৃত্বে ওই দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ সড়কে ফারুক আহম্মেদের একটি ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন প্রবাসী সবুজ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়জনকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, ওই ভবনের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন সবুজের স্ত্রী মিলি আক্তারের বান্ধবী সাথী আক্তার। সাথীর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ঘটনার দিন সবুজ ও মিলিকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁরা বাসায় যাওয়ার পর অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে মিলির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাথী আক্তারের প্রায় এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় বাধা দিলে মিলিকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে ওই দম্পতিকে জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ও ব্যাংক কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে একটি কক্ষে নিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সবুজ তাঁদের বিয়ের ছবি দেখালে অভিযুক্তরা হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর রিয়াদ হাসান বয়াতি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের অভিভাবকেরা ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জানান, শহর থেকে রিয়াদ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে বুধবার সকালে আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
