নিজাম উদ্দীন সালেহ 

একসময় ভ্যান মানেই ছিল শুধু সবজি। এখন তালিকাটা অনেক লম্বা। মৌসুমী ফল আম, জাম, লিচু, পেয়ারা, কমলা লাল শাক, পুঁইশাক, কচু, ঢেঁড়স ইত্যাদি ক্ষেত থেকে সরাসরি এখন  বাসাবাড়িতে আসে। মাল্টা, লেবু, আম, পেয়ারা, ফুলের চারার জন্যসব সময়  নার্সারিতে আর যেতে হয় না, নার্সারি বাসায় আসে।

আসে কাঁচা মাল, শুটকি, মশলাপাতি, আচার এমনকি তৈজষ পত্র এবং সংসারে জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি জিনিস ও। নগরীতে প্রধান সড়কের পাশে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৫০-১০০ ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকে। কিছু ভ্যান গাড়ি থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। সিলেট নগরীতে আনুমানিক ৩-৪ হাজার ভ্যান আছে। একটা ভ্যান আর ৫-৭ হাজার টাকার পুঁজি হলেই ব্যবসা শুরু। অনেক শিক্ষিত বেকার, প্রবাস ফেরত তরুণও এই পেশায় আসছেন।

বয়স্ক মানুষ, কর্মজীবী নারী, তাদের আর সব ক্ষেত্রে বাজারে যেতে হয় না। দামও অনেক সময় অনেক কম। এক গৃহিণী বললেন, “আগে রিকশা ভাড়া ৪০ টাকা দিয়ে বাজারে যেতাম, এখন নিচে নেমেই সব পাই।”

বিভিন্ন উপজেলার বিশেষ করে শহরতলীর কৃষকরা এখন তাদের  শাক সবজি ফলমূল সরাসরি ভ্যানে করে শহরে নিয়ে আসেন, তাই মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম কম। তবে সুবিধার সাথে সাথে ভোগান্তিও বাড়ছে। সিলেটের রাস্তা এমনিতেই সরু। বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার,আম্বরখানা, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, সুবিদ বাজার ও কদমতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্যানগুলো রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রাখে। পাশ দিয়ে আরেকটা ভ্যান দাঁড়ায়, ক্রেতা দাঁড়ায়। সন্ধ্যার পর অটোরিকশা আর ভ্যান মিলে এমন জট লাগে যে ১০ মিনিটের রাস্তা ৪০ মিনিট লাগে। 

ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, “আমরা সরাতে গেলে বলে, গরিব মানুষ, দুই মিনিট। কিন্তু এই দুই মিনিট জমে ঘণ্টা হয়ে যায়।” 

পথচারী হাঁটবে কোথায়? ফুটপাতের অর্ধেক ভ্যান, অর্ধেক ক্রেতা। বাধ্য হয়ে মানুষ মূল সড়কে নেমে হাঁটে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। ফল ও সবজির পচা অংশ, পলিথিন রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।

ভ্যান বন্ধ করা সমাধান নয়, কারণ এটা হাজার পরিবারের জীবিকা। প্রয়োজন ব্যবস্থাপনা।  সকাল ৭-৯টা ও বিকেল ৫-৮টা পর্যন্ত পাড়ার ভেতরের গলিতে ভ্যান বসতে দেওয়া, প্রধান সড়কে নয়। সিটি করপোরেশন ১০-১২টি “ভ্যান জোন” চিহ্নিত করতে পারে।

প্রতিটি ভ্যানকে একটি নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করলে চাঁদাবাজি কমবে, শৃঙ্খলা আসবে। ভ্যানের নিয়ম হলো চলবে, দাঁড়িয়ে থাকবে না। এক জায়গায় ১৫ মিনিটের বেশি না।

সিলেটের মানুষ অতিথিপরায়ণ, নতুনকে আপন করে নেয়। ভ্যান ব্যবসাকেও আপন করে নিয়েছে। এখন প্রয়োজন একটু নিয়ম, যাতে সুবিধাটা থাকে, কিন্তু শহরটা আটকে না যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *