বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি সাঁতার জানতেন। শুধু তা-ই নয়, বৈমানিক হিসেবে পেশাগত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর তাঁর উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করার সনদও ছিল। তাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের সঙ্গী আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেওয়ার’ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর অভিযোগ, মূল ঘটনা আড়াল করে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দ্বীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তাহসিফের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাহসিফকে কেন লোকজন ধাওয়া করতে যাবে? এগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন কথা। আমার ছেলে ভালো সাঁতার জানত। সে পাইলট ছিল, সাঁতারের ওপর বড় কোর্স করেছে এবং সেটির প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেটও রয়েছে। এমন একটি ছেলে নদে পড়ে ডুবে যাবে এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই এটি ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে। বিষয়টিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেই আমার ধারণা।”
তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’ মাকে এ কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফের পরিচিত ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত দ্বীপকে বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর।
পিবিআইকে দ্বীপ জানান, ঘটনার দিন তাঁরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ কিছু লোক তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দ্বীপের তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার পাশেই একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করে পিবিআই। তবে সেটি তাহসিফের কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ একেক সময় একেক ধরনের কথা বলছেন। তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাহসিফকে ফেলে কেন দ্বীপ একা পালিয়ে এলেন সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। দ্বীপের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইসহ পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
