লেখক ও ব্যাংকার শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক শাহাদত বখ্ত শাহেদ একজন সিলেটি লেখক। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত রয়েছেন। তার লেখার মাধ্যমে দেশ ও সমাজ বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন বিষয় প্রায়ই তিনি নিজের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন। তেমনি একটি বিষয় নিয়ে তিনি – সিলেট কালচারাল সেন্টার প্রস্তাবিত দাবির পক্ষে নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তার সেই লেখাটি আমার সিলেট পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

নতুন প্রস্তাবনা :
“সিলেট কালচারাল সেন্টার” : ঐতিহ্য সংরক্ষণে এক অনিবার্য প্রয়োজন।
সিলেট সাহিত্য–সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ জনপদ। সিলেটি নাগরী লিপি, পুঁথিসাহিত্য, লোকসংগীত, ধামাইল, বাউল ও মরমী সাধনা ও আধ্যাত্নিকতা এ অঞ্চলের অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয়। হযরত শাহজালাল রঃ ও ৩৬০ আউলিয়া, শ্রী চৈতন্যের পূর্ণভূমি, হাসন রাজা, মুনশি সাদেক আলী,,শাহ আব্দুল করিম, আরকুম শাহ,দূরবীন শাহ্, শেখভানু,কবি দিলওয়ার সহ অসংখ্য মনীষীর সৃষ্টিকর্ম এ ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

অথচ এত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা ও বিকাশের জন্য সিলেটে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ কালচারাল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান পুঁথি, লোকজ ঐতিহ্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস।

তাই সিলেটে একটি আধুনিক সিলেট কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা সময়ের অনিবার্য দাবি। এখানে থাকবে নাগরি গবেষণাগার, লোকসাহিত্য আর্কাইভ, পাঠাগার, অডিটোরিয়াম, নাট্যচর্চা কেন্দ্র, আর্ট গ্যালারি, শিশু পার্ক, খোলা মঞ্চ ও পর্যটন তথ্যকেন্দ্র,
ওয়ার্কওয়ে,পার্কিং ইত্যাদি ।

আমাদের প্রস্তাব, শহরের পরিত্যক্ত পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় এই কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হোক। এতে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ঐতিহাসিক স্থাপনার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সিলেটের সাহিত্য–সংস্কৃতির বিকাশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

এই প্রস্তাবের পক্ষে আপনাদের মতামত জানতে চাই। আপনারা কি একমত? “হ্যাঁ”অথবা “না”—মতামত জানিয়ে সিলেটের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশ নিন। এই প্রস্তাবের পক্ষে বৃহত্তর সিলেটের দেশী / প্রবাসী অবসর প্রাপ্ত সরকারী/বেসরকারি সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী নবীন প্রবীণ সিলেটপ্রেমী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সকল পেশার জনগণ, কবি সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,ডাক্তার উকিল,ইন্জিনিয়ার, অন্যান্য সকল শ্রেণির সর্বস্তরের সচেতন লোকদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ বিষয়টি সকলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, তাই এই জরিপে সবার অংশ গ্রহন ও পরামর্শের আবেদন রইলো।

ধন্যবাদান্ত-
বাবরুল হোসেন বাবুল
মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান
ও
শাহাদত বখ্ত শাহেদ
শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক
সিলেট কালচারাল সেন্টার
প্রস্তাবিত দাবির পক্ষে।
৩১ অক্টোবর ২০২৬
সিলেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *