নিজাম উদ্দীন সালেহ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকাটি অনেকটা মরণ ফাঁদ বা ডেথ ভ্যালিতে পরিণত হয়েছে।
গত রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় হালিমা বেগম (৩০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। অসুস্থ নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাত আটটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ৩ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই স্থানটিতে প্রায়ই এধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানটি মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর আদৌ কোন মাথাব্যথা আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। গত ১ বছরে এই স্পটে বড় দুর্ঘটনা ১০-১২টি দুর্ঘটনায় ৭-৮ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় হালিমা বেগম (৩০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। অসুস্থ নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাত আটটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ৩ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই স্থানটিতে প্রায়ই এধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানটি মারাত্মক দুর্ঘটনাপ্রবণ হলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর আদৌ কোন মাথাব্যথা আছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। গত ১ বছরে এই স্পটে বড় দুর্ঘটনা ১০-১২টি দুর্ঘটনায় ৭-৮ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাজপুর-কাশিকাপন অংশটা এখন মৃত্যুফাঁদ। স্থানীয়রা বলেন, মাসে ৩-৪টা বড় দুর্ঘটনা, প্রতি মাসে মৃত্যু। কেন বারবার একই জায়গায়?
ঘটনাস্থল সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ৬টি কারণ পাওয়া গেছে, সেগুলো হচ্ছে, কাশিকাপন বাজার থেকে তাজপুর পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা একদিকে বাঁক, অন্যদিকে ঢালু। ওসমানীনগর থেকে সিলেটগামী গাড়ি ঢাল বেয়ে নামে প্রচণ্ড গতিতে, আর বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি বাঁকের কারণে দেখা যায় না। দুটি গাড়ি মুখোমুখি হয়ে যায়। রাতে কোনো রোড মার্কিং, রিফ্লেক্টর নেই। এছাড়া
সিলেট-ঢাকা রুটে বাস ও ট্রাকের প্রতিযোগিতা চলে এই অংশে। তাজপুরের পর রাস্তা ফাঁকা পেয়ে চালকরা ১০০ প্লাস কিমি গতিতে গাড়ি চালায়। কাশিকাপন বাঁকে ওভারটেক করতে গিয়েই বেশিরভাগ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এছাড়া মহাসড়কে নিষিদ্ধ হলেও কাশিকাপন-তাজপুর অংশে ব্যাটারিচালিত অটো, সিএনজি অবাধে চলে। এগুলোর গতি কম, হেডলাইট নেই। রাতে ট্রাক চালকরা হঠাৎ সামনে পেয়ে ব্রেক করতে গিয়ে উল্টে যায়। এছাড়া
গত বর্ষায় রাস্তার দুই পাশ ভেঙে গর্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পাথর ফেলে রাখে, কিন্তু কার্পেটিং করে না। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে, গাড়ি স্লিপ করে।
এত দুর্ঘটনাপ্রবণ এই এলাকায় কোনো হাইওয়ে পুলিশ বক্স নেই। স্পিড গান, সিসিটিভি কিছুই নেই। দুর্ঘটনার পর পুলিশ আসে লাশ নিতে, আগে প্রতিরোধে কেউ নেই। বলা যায়
তাজপুর-কাশিকাপনে প্রতিটি দুর্ঘটনাই হত্যা, দুর্ঘটনা নয়। কারণ জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া হত্যার শামিল। সওজ ও জেলা প্রশাসনকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে, আরেকটি লাশ পড়ার আগে।
