মুহাম্মদ নুরুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা

শাহাদত বখ্ত শাহেদ :  সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-কেমুসাস একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান নির্মাতা ছিলেন সাহিত্যসেবী, ভাষাসৈনিক ও লেখক মুহম্মদ নুরুল হক (১৯০৭–১৯৮৭)। তিনি ছিলেন কেমুসাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সম্পাদক এবং এর মুখপত্র মাসিক আল ইসলাহ-এর সম্পাদক। সাহিত্যচর্চা ও লাইব্রেরি আন্দোলনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি ফেলোশিপও লাভ করেন।

তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল না। কেমুসাসে পত্রিকা কিংবা বই পড়তে গেলে দূর থেকে তাঁকে দেখতাম। নীরব, স্বল্পভাষী মানুষটি সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, কিস্তি ও সাদা টুপি পরে আপন মনে কাজ করে যেতেন। জীবনে তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল মাত্র একবার।

সময়টা ১৯৮৪ সালের দিকে। প্রায় সন্ধ্যা। আমার চাচাতো ভাইয়ের মাদ্রাসার পরীক্ষার ফল জানতে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা খুঁজছিলাম। সেদিন ফল প্রকাশের কারণে পত্রিকার কাটতি ছিল বেশি; বাজারে কোথাও পত্রিকা পাওয়া গেল না। শেষ ভরসা কেমুসাস।

গিয়ে দেখি, নুরুল হক সাহেব দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যাচ্ছেন। তড়িঘড়ি সালাম দিয়ে বললাম, “পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে এসেছি। বাজারে পত্রিকা পাইনি। আপনি যদি একটু দেখতে দিতেন…”
তিনি একটুও বিরক্ত হলেন না। আবার তালা খুললেন, ঘরে ঢুকে লাইট জ্বালালেন এবং আমাকে পত্রিকাটি দেখতে দিলেন। ফল দেখে তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বের হওয়ার সময় দেখলাম, আরও দুজন মাদ্রাসাছাত্র রেজাল্ট দেখতে এসেছে। তিনি তাদেরও ভেতরে বসতে বললেন।

সেদিন মনে হয়েছিল-মহত্ত্ব আসলে পদ-পদবিতে নয়, মানুষের প্রতি আচরণে। একজন মানুষ নিজের কাজের সময় শেষ হওয়ার পরও অপরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে যে দরজা আবার খুলে দেন, সেটিই তো প্রকৃত সেবার দরজা।

গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পেরিয়ে গেল। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি নশ্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। নীরবে সাহিত্যসেবা করে যাওয়া সেই মহান মানুষটির প্রতি জানাই শাশ্বত শ্রদ্ধা। মহান আল্লাহ তাঁর রুহের মাগফিরাত করুন।

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেট

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৮
  • ১১:৫৬
  • ৪:২৩
  • ৬:১৪
  • ৭:২৯
  • ৫:৩৩