স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমানোর। বড় ভাই থাকেন ফ্রান্সে, আর ছোট ভাই রাসেল আহমদকে (২৩) ঘিরে পরিবার দেখছিল নতুন স্বপ্নের সম্ভাবনা। মাত্র সাত দিন আগেই এসেছে কাঙ্ক্ষিত ভিসার ইমেইল। কিন্তু এক মর্মান্তিক ঘটনায় সব স্বপ্ন থমকে গেল রক্তের দাগে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমাআ’র নামাজ শেষে মায়ের হাতে ভাত খেয়ে তাঁর জন্য ওষুধ কিনতে বের হন রাসেল। এমন কথাই জানিয়েছেন সিলামে নিহত রাসেলের মা।
এরপর সিলেট দক্ষিণ সুরমার সিলাম চকেরবাজার এলাকায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের নিথর দেহের পাশে মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘ছেলেটা নামাজ পড়ে ভাত খেয়ে আমার ওষুধ আনতে গেল, আর ফিরল লাশ হয়ে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২১ আগস্ট একই ওয়াকফ এস্টেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনসহ আট পুলিশ সদস্য এবং উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হয়। বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চললেও তা থামেনি; দেড় মাসের ব্যবধানে ফের সংঘর্ষে প্রাণ গেল রাসেলের।



