
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দেশীয় পণ্যের জমজমাট মেলা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কানাডার মন্ট্রিয়লে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়ল।
রোববার (১৭ মে) মন্ট্রিয়লের ভ্যানিয়ার কলেজ ক্যাম্পাস দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বয়সী বাংলাদেশি নারী-পুরুষের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। কেনাকাটা, গল্প-আড্ডা এবং স্মৃতিচারণে প্রবাসীদের মিলনমেলায় ছিল উৎসবের আমেজ।
দুপুর থেকেই শুরু হয় বৈশাখী মেলা। সুপরিসর হলজুড়ে দেশীয় পণ্যের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। শাড়ি, গয়না এবং মুখরোচক দেশীয় খাবারের স্টলগুলো আকর্ষণ করে সকলকে। মনোরম ও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াও অনুষ্ঠানের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বৈশাখী সাজে সজ্জিত নারীরা এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা লাল পাঞ্জাবি পরিহিত পুরুষেরা ঢাক-ঢোলের তালে গান গেয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে মূল অনুষ্ঠানস্থলে এসে মিলিত হয়।
সন্ধ্যায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মন্ট্রিয়লের সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সরগম মিউজিক একাডেমি’র দলীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে একে একে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনায় অডিটোরিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে। অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন বিন্দু কণা ও ফকির শাহাবুদ্দিন।
(1).jpeg)
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মন্ট্রিয়লের নবনির্বাচিত কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, সভাপতি শাকিল আহমেদ পিয়াস এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শামসাদ রানা, সাফিনা করিম ও আরিফ মোল্লা।
অনুষ্ঠানের কয়েকটি দিক দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। মন্ট্রিয়লে প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর চলমান হলসংকটের মধ্যেও আয়োজকরা তুলনামূলক অভিজাত ও সুপরিসর ভেন্যুতে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হন। এছাড়া সংবাদকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে দৃষ্টিনন্দনভাবে নামফলক সংযুক্ত করা, অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়।
এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা লাল পাঞ্জাবি পরিহিত বিপুলসংখ্যক কর্মী ও অতিথির উপস্থিতি উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলে।
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই বৈশাখী উৎসব রাত ১২টায় আনন্দঘন পরিবেশে সমাপ্ত হয়।