
হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে কুরআন মজিদ বিষয়ের প্রশ্ন সারা দেশে এক সেট দেওয়া হলেও ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে অন্য সেট দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর খাতা আলাদা করা হয়েছে।
কেন্দ্রটি হচ্ছে হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. ফারুক মিয়া, হল সুপার মো. খাইরুদ্দীন এবং চেক অফিসার মিজানুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাপিয়া আক্তার জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ১০০টি খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তাদের খাতাগুলো আলাদা করে হাতেহাতে পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন না। সিদ্ধান্তগুলো মঙ্গলবার বিকালে হয়েছে; কিন্তু চিঠি পৌঁছেছে বুধবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্নের তিনটি সেট তৈরি করা হয়। একটি সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অন্যগুলো বিকল্প হিসেবে থাকে। এক সেটের সঙ্গে অন্য সেটের প্রশ্নের ২০ শতাংশের বেশি মিল থাকে না। পরীক্ষা হলে এমন অসতর্কতা কাম্য নয়।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৬২৪ জনের মধ্যে ৬০৮ জন মঙ্গলবার প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ দিন দাখিল পরীক্ষার কুরআন মজিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশে ‘যমুনা-১’ সেটে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে ১০০ পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ‘মেঘনা-১’ সেট দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাপিয়া আক্তার কেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্ট খাতাগুলো সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসারকেও সেখানে নেওয়া হয়। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।