ব্রাজিল কোণঠাসা, হাইতির হারানোর কিছু নেই

ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা মেসিকে চান ব্রাজিল দলে! ব্রাজিলের সর্বকালের সেরাদের একজন রোনালদো নাজারিও লিওনেল মেসিতে মুগ্ধ। তিনি বলেছেন, মেসি যে সেরাদের সেরা এ নিয়ে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। মেসির শ্রেষ্ঠত্ব সবাইকে মেনে নেয়া উচিত। লুলা দা সিলভার কথা রসিকতার ছলে, রোনালদো সত্যি সত্যিই মেসিকে মানছেন সেরা হিসেবে। এমন এক সময় তাঁরা দুজন মেসিকে নিয়ে কথা বলছেন, মেসিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন, যখন ব্রাজিল খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে! আত্মবিশ্বাসে একটু এদিক, ওদিক হলেই পড়ে যাওয়ার ভয় থাকছে। সেই ভয় নিয়েই আগামীকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রতিপক্ষ বড় কোন দল নয়- হাইতি। কিন্তু মরক্কোর সঙ্গে ড্র ম্যাচের পর কোন কিছুই যে আর ব্রাজিলের হয়ে কথা বলছে না। রেকর্ড পাঁচটা বিশ্বকাপ শিরোপা, সবকটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা একমাত্র দল এই সবকিছুই অনর্থক মনে হচ্ছে। আসলে ব্রাজিল বলেই প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। নিজ দেশের মানুষ থেকে শুরু করে ফুটবল দুনিয়ার বড় একটা অংশ ব্রাজিল হারতে পারে এটা মানতে চায় না! ফিফার অবস্থান তালিকায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা মরক্কো হলেও নয়! এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই মাঝেমধ্যে কাল হয়ে যায়, বছরের পর বছর হেক্সা জয়ের অপেক্ষা বাড়ায়।

এবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গ্রুপটা তো অন্যদের চেয়ে সহজ বলা যায়। গ্রুপ সি’তে তাঁদের সঙ্গে আছে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। কিন্তু স্কটল্যান্ড, হাইতির মতো দলকে নিয়েও আনচেলত্তির মাথা খাটাতে হচ্ছে। কারন একটাই, মরক্কোর সঙ্গে ড্র। এই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেন, পর্তুগালও তো ড্র করেছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে। তাই বলে কি তাঁদের সব শেষ। তাহলে ব্রাজিলের কেন শেষ হবে? মরক্কো কঠিন প্রতিপক্ষ বলেই পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে। এখন সামনে হাইতি আর স্কটল্যান্ড। সামনের পথটা পিচ্ছিল নয়, মসৃণ হওয়ারই কথা। এক হিসেবে তো গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ায় ভালোই হয়েছে ব্রাজিলের! বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতা ওল্টালে খাদের কিনার থেকে উঠে দাঁড়ানোর অনেক নজিরই দেখা যায়। গত বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনাকেই দেখুন। সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচ হারের পর বাকি ছয়টা ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ২৪ বছরের হতাশা ভুলে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ব্রাজিল। সেই বিশ্বকাপেও দুঙ্গার দলকে নিয়ে অতটা মাতামাতি নেই, প্রত্যাশাও ছিল না বেশি। ৯৪ বিশ্বকাপের বাকিটা তো ইতিহাস। একটা একটা করে ম্যাচ জিতে ফাইনাল মঞ্চে ব্রাজিল। তারপর ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন। মার্ক্যুনিউস, দানিলো, কাসেমিরো, ভিনিসিয়াসরা পূর্বসুরীদের কীর্তি থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারেন। হাইতির বিপক্ষে অনুপ্রেরণা খোঁজারই বা কি আছে। ক্যারিবিয় দ্বীপরাষ্ট্রটির কাছে ব্রাজিল তো অন্যরকম অনুপ্রেরণা। সেই ২০০৪ সাল থেকেই হাইতিতে ফুটবল মানেই ব্রাজিলের ছায়া! ফুটবলে কেউ স্বপ্ন বুনলেই হতে চায় রোমারিও, রোনালদিনহে, রবার্তো কার্লোস কিংবা নেইমার, ভিনিসিয়াস। কারনও আছে, বন্দুকের নল, বারুদের গন্ধ যখন হাইতিয়ানদের নিয়তি তখনই ২০০২ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল অশান্তির দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে। অস্ত্র, গোলাবারুদ সব ভুলে হাইতির মানুষ তখন ফুটবলে উন্মাদ, ব্রাজিলে আচ্ছন্ন। এরপর থেকে দেশটিতে ফুটবল বলতেই ব্রাজিল, ফুটবলার বলতেই রোমারিও, কার্লোসরা! ২২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপ কি অদ্ভুতভাবে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে আবেগ- ভালোবাসায় জড়িয়ে যাওয়া দুই দলকে। যেখানে ব্রাজিল কোনঠাসা, হাইতির হারানোর কিছু নেই!

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৮
  • ১১:৫৭
  • ৪:৩৩
  • ৬:৪৫
  • ৮:১২
  • ৫:০৫