
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামী জননন্দিত জামায়াত নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খিজির আহমেদকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১১টার দিকে বড়লেখা বাজারের আলভীন রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষীসাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী লোকমান আহমদ নিহত হয়।
এ ঘটনায় খিজির আহমদ সহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫/অজ্ঞাত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়। ১৩ বছর আগের সেই মামলার ওয়ারেন্ট জারি থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত খিজির আহমদের ছোট ভাই তারেক আহমদ জানান, ‘আমার বড় ভাই দীর্ঘদিন থেকে কাতারে অবস্থান করছেন, সেখানে তিনি ব্যবসার সাথে জড়িত। ৫ আগষ্ট পরবর্তী তিনি দেশে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন। ২০১৩ সালের একটি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার ওয়ারেন্ট দেখিয়ে আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছরের একটি কথিত মামলায় একজন জননন্দিত জামায়াত নেতাকে বাজার থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এটা ফ্যাসিস্ট সরকারের পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছু নয়।
তাছাড়া তার বিরুদ্ধে কোন মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলে পুলিশ তাকে অবহিত করলে তিনি স্বেচ্ছায় থানায় উপস্থিত হতেন। কারণ তিনি প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে এই মামলার ওয়ারেন্ট ঘোষণা হয়। তার এমন গ্রেফতারে সামাজিক-মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে এলাকাবাসী জানান।
বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও জেলা সুরা সদস্য এমাদুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক ছাত্রনেতা খিজির আহমেদ দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত এবং অত্র এলাকার জননন্দিত জামায়াত নেতা। এর আগে তিনি পৌর মেয়র নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেও পতিত স্বৈরাচার সরকার তার বিজয় ছিনতাই করে।
এমতাবস্থায় তাকে ২০১৩ সালের রাজনৈতিক হয়রানি মামলায় গ্রেফতার করা খুবই দুঃখজনক। বর্তমানে অনেক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশ প্রশাসনের অতি উৎসাহী হয়ে এভাবে অভিযান ও গ্রেফতার করা খুবই দুঃখজনক। এজন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়লেখা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, জনাব খিজির আহমদের বিরুদ্ধে জিআর ৬২/২০১৩ মামলা নং ২৭ (২৮-০২-১৩) নম্বর মামলায় মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।