
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেটি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্যের বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অডিওতে এক বাসিন্দার সঙ্গে কথোপকথনের সময় প্রকৌশলীকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন আর কোনো ড্রেন নাই, টেন্ডার নাই। আপনারা নিজেরাই ড্রেন করে নিন’। এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মজলিশপুর সরকারি পুকুরপাড় সড়কের এক বাসিন্দা পূর্বে মাপজোখ করা ড্রেন নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকৌশলী একথা বলেন।
এরপর ওই বাসিন্দা জানতে চান, প্রকল্পটি কোনো প্রক্রিয়ায় আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রক্রিয়ায় নাই।’ পরে টেন্ডার হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনেরা করিলাইন।
এ সময় বাসিন্দা প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কেন করব? এটা কি কোনো ধারাবাহিকতায় থাকবে না? অথচ পৌরসভায় তো একের পর এক ড্রেনের টেন্ডার হচ্ছে।’ উত্তরে প্রকৌশলী বলেন, ‘কোনো ধারাবাহিকতা নাই। আমি তো বলছি, এটা টেন্ডার হবে না।’
কেন টেন্ডার হবে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আপনারে কইতে পারব না, ফোন রাখইন।’
প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন মজলিশপুর সরকারি পুকুরপাড় সড়কের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই বছর আগে লিখিত আবেদন, মাপজোখ ও প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও এখন পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য বিষয়টি স্বীকারও করেননি, অস্বীকারও করেননি।তিনি কাজের তাড়া দেখিয়ে বলেন, ‘আমি এখন হাসপাতালে রোগী দেখতে এসেছি। পরে কথা বলব।’
দিরাই পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি জানান, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি ওয়ার্ড পরিদর্শন করে যেখানে ড্রেন নির্মাণ জরুরি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



