জমির মালিক আবাসন এসোসিয়ট। আবাসন ডেভলাপারস নয়। আবাসন ডেভলাপারস এর নাম নেই জমির দলিলে, নেই নামজারি কিংবা খাজনা রশিদে।তাহলে একটি ব‍্যানার দিয়ে কী দায় এড়ানো যায়? ছবি : আমার সিলেট

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চলছে সার্কাস । সব গল্পের একটা শেষপর্ব থাকে । শেষ বার্তা দিয়ে শেষ করা হয় গল্প । তবে আবাসন সার্কাসের যেন কোনো শেষ নেই । এখানে জটিলতার পর জটিলতায় হাবুডুবু অবস্থা । জমি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে । এমনই অস্পষ্টতার গল্প ও দুর্নীতির চিত্রে ভরপুর সিলেটের প্রাণকেন্দ্র আম্বরখানায় অবসস্থিত আবাসন আবাসন এসোসিয়েটের ভূমি নিয়ে।

‘‘যাহা বলিব সত্য বলিব। মিথ্যা বলিব না। জেনে বুঝে সত্য গোপন করিব না”। জমির মালিক আবাসন এসোসিয়ট। আবাসন ডেভলাপারস নয়। আবাসন ডেভলাপারস এর নাম নেই জমির দলিলে, নেই নামজারি কিংবা খাজনা রশিদে।তাহলে একটি ব‍্যানার দিয়ে কী দায় এড়ানো যায়?

এখানেই শেষ নয়। প্রকল্প এলাকায় জমির পরিমাণ কত? এক হিসেবে ৮০ শতক আরেক হিসাবে ৯৬শতক। আবার ১০৮ শতকের তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে আলাপ আলোচনায়। কতজন শেয়ার হোল্ডার আছেন? আংশিকভাবে টাকা পরিশোধ করেছেন, পুরো টাকা পরিশোধ করেছেন কতজন? শেয়ারের হাত বদলের তথ্য রয়েছে । নতুন করে ৫ টি শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে । এখানে আছে অস্পষ্ট চিত্র । দুটি কোম্পানি আছে কিন্তু একটি কোম্পানি নাম সর্বস্ব! হতভাগা শেয়ারহোল্ডার রা আবাসন ডেভলাপারস এ নাম তুলে বিপাকে আছেন)।

কোম্পানীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে । কারণ এক যুগের বেশি অডিট নাই, নেই এজিএম এমনকি কোম্পানির কোন ব‍‍্যাংক একাউনট নাই। জটিল অবস্থায় আছে কোমম্পানীর অস্তিত্ব। কারণ ৪/৫ টি আপত্তি আছে জয়েনট স্টক কোম্পানীতে।

কোম্পানীর আভ্যন্তরীণ সমস‍্যা নিজেরা শেষ করার সুযোগ তৈরী হলেও এমডি ফতেহ আহমদ কোম্পানীর চেয়ারম‍্যানকে বাদ দিয়ে কতিপয় শেয়ার হোলডারের পরামর্শে ব্যক্তি কেন্দ্রীক করেছেন একটি বিশাল কোম্পানীকে। তিনজনের নামে ব্যাংক একাউন্ট খোলে তৈরী করেছেন নানা বিতর্ক ও সন্দেহজনক তৎপরতা।

আবাসনের বিভিন্ন সমস‍্যা সমাধানের জন‍্য অতীতে জামায়াত নেতাদের সাহায‍্য নেয়া হয়েছে, কখনো আওয়ামীলীগ নেতাদেরও। আবার প্রবাসী সেলে আবেদনের কারণে এসএমপিতে ‍যেতে হয়েছে পরিচালকদের।

এবার আবাসনের সমস‍্যা সমাধানের জন‍্য আবেদন হতে পারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে। সে আবেদনের অনুলিপি দেয়া হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে।

এছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী যেহেতু সিলেট-১ আসনের এমপি এবং তার নির্বাচনী এলাকায় আবাসনের জমি তাকে অনুলিপি দেয়া হবে।

এটি হতে পারে আবাসনের চলমান সার্কাস বন্ধ করার শেষ বার্তা । এ বিষয়ে সোচ্চার আছেন কিছু পরিচালক। তারা সক্রিয় আছেন সম্ভাবনার এই প্রকল্প যাদের কাছে জিম্মি তাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে।

তারা মনে করেন সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি হলে এখানে বহুতলা মার্কেট তৈরি সম্ভব। মুল‍্যবান জমি বিক্রি করে লাভবান হবেন তাঁরা । কোম্পানীর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার নিশ্চিত করতে পারলে ডেভলাপারসের মাধ্যমে সবাই উপকৃত হবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *