অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন গ্রহণ করে আদালত এ আদেশ দেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। রাজধানীর গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে তাঁর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন শো ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সূত্রে তানজিন নাহার তিশার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তাঁর সাবেক চালকের মাধ্যমে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে গত বছরের ১০ মে দাখিল করা পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শাড়ি নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগের পক্ষে বাদী কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি। তদন্তের অংশ হিসেবে তিশার বক্তব্যও নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে তিশার বক্তব্যের বরাতে বলা হয়, তাঁর সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যান। পরে তিনি ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শাড়িটি পাঠানো হয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের পক্ষে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি বলে মত দেন। তবে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দিয়েছেন।

সিআইডির তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে, তা এখন দেখার বিষয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *