সিলেটে একদিনে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) নগরীর কাজলশাহ মসজিদ-সংলগ্ন রাস্তার পাশ, জৈন্তাপুরের তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের পাশের এলাকা এবং সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে নগরীর কাজলশাহ মসজিদ-সংলগ্ন রাস্তার পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বেলা পৌনে ৩টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, ওই নারীর নাম-পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার রাজিবপুর এলাকার বাসিন্দা। মরদেহের পাশে স্যান্ডেলভর্তি একটি ঝুড়ি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ফেরি করে স্যান্ডেল বিক্রি করতেন।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
এ ছাড়া, রোববার সকাল ১১টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
একই দিনে সিলেটের পৃথক তিনটি স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
