
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহত সকলেই নির্মাণ শ্রমিক। সিলেট থেকে পিকআপ ভ্যানে করে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলেন তারা। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
রবিবার (৩ মে) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত ফখরুল আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার সেঁততি গ্রামের বসির মিয়ার মেয়ে মোছা. মুন্নি (২৬), ভাটিপাড়া নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে ফরিদুল (৩৫), ধর্মপাশা উপজেলার সরিবা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী নার্গিস (৪৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা এলাকার সুরত আলীর ছেলে মো. বদরুল জামান (৪০) এবং একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুটির বিশ্বাসের ছেলে পাণ্ডব বিশ্বাস (২০)। অন্য ২ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহতরা একটি ডিআই পিকআপে করে নির্মাণ কাজের উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রবিবার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশকিছু নির্মাণ শ্রমিক লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।দুর্ঘটনার পর থেকেই পিকআপ ও ট্রাকউভয় চালক পলাতক রয়েছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।