
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে এক বিরল মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন শহরটির বর্তমান মেয়র ক্যারেন ব্যাস। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মেয়র সশরীরে ‘লিটল বাংলাদেশ’ এলাকায় এসে প্রবাসীদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসলেন।
সম্প্রতি লিটল বাংলাদেশ চত্বরের ‘অর্কিড কিচেন’ রেস্টুরেন্টে ‘লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ লস অ্যাঞ্জেলেস’ এবং মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই উৎসবমুখর চা-চক্র ও উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে আসা পেশাজীবী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রবাসীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েনা পার্কের নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিল ওম্যান লামিয়া হক।
বক্তব্যের শুরুতেই মেয়র ক্যারেন ব্যাস নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ওপর আইস (ICE)-এর হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই লস অ্যাঞ্জেলেসে এ ধরনের অভিযান বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে। আগামী নির্বাচনে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সুরক্ষায় কাজ করে যাবেন।
উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রবাসীদের মূল দাবিগুলো ছিল: ১. অভিবাসন সমস্যার স্থায়ী ও সহজ সমাধান। ২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক কার্যক্রমের জন্য একটি স্থায়ী ‘কমিউনিটি সেন্টার’ স্থাপন। ৩. হেইট ক্রাইম (বিদ্বেষমূলক অপরাধ) প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ৪. পবিত্র দুই ঈদে স্কুল-কলেজে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।
অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়কারী ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি ‘ইউথ ফর ব্যস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মেয়র কার্যালয়ের সমন্বয়কারী সাবাহ নাবিহা। এছাড়া এই মতবিনিময় আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী মামিনূল হক বাচ্চু, সাফিউল আলম বাবু ও শামীম হোসেনসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে মামিনূল হক বাচ্চু মেয়রকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।