
সিলেট নগরীর কাষ্টঘর ও ধোপাদিঘির পাড় এলাকায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের মোট ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ও সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রেরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ও সাড়ে ৩টার দিকে পৃথক সময়ে এই অভিযানগুলো চালানো হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ সংঘবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের নিকট থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল ছিনতাই করে আসছিল। তারা সবাই আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
শুক্রবার বিকেলে কোতোয়ালী থানা পুলিশ নগরের মহাজনপট্টি কাষ্টঘর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ১টি চাকুসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার মো. জাহেদ আহমদ (৩৫), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মির্জা ছাব্বির (৪৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাসান (২৯)।
এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধোপাদিঘির পাড় এলাকার পাবলিক টয়লেটের পাশ থেকে দুটি চাকুসহ আরও ৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সওদাগরটুলা (বাসা নং-৫৯) এলাকার আলমগীর মিয়া ও মৃত আয়নামতি বেগমের ছেলে মো. সাজা মিয়া (৩২), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানার পলিগ্রাম বাগবেড় বাজার এলাকার মৃত আব্দুল কাদির ও কুলসুমা বেগমের ছেলে সফর আলী (২৫) বর্তমানে তিনি নগরীর জালালাবাদ থানার আখালিয়া নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার চাকধ লিয়াকত মাদবরকান্দি এলাকার মৃত হামিদ মালতের ছেলে রুবেল মালত (৩৫), সাদিপুর-২ (মাছিমপুর) এলাকার মো. নুরুল ইসলাম ও মোছা. ছকিনা বেগমের ছেলে মো. মোশাররফ হোসেন (৩৬)।
ধোপাদিঘির পাড়ের অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম নিশ্চিত করেছেন যে, ধৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৫২, তারিখ: ২৩/০৫/২০২৬ খ্রি.) দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মোট ৭ জনকেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে এবং ছিনতাই চক্রের মূল উৎপাটনে পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসএমপি প্রশাসন।