
সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ইমন আচার্যের বাড়িতে নেমে এসেছে স্তব্ধতা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আকাশ-বাতাস। মাত্র তিন মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ইমন। বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই স্বামীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তাঁর সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ মা-বাবা।
শুক্রবার (২২ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় এই মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন আচার্য (র্যাব আইডি নং- ১০৬৩২৫৯) র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ এ কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আচার্য পাড়ায় ।
এ বিষয়ে আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আজ সকালে ইমনের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। র্যাবের একটি বিশেষ দল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মরদেহের সাথে রয়েছেন।”
নিহতের কাকা এবং হাটহাজারীর কাটিরহাট পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, “মাত্র তিন মাস আগে ইমন বিয়ে করেছিল। কয়েকদিন আগেই সে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল, সবার সাথে আনন্দ করে আবার কর্মস্থল সিলেটে ফিরে যায়। কিন্তু এটাই যে তার শেষ দেখা হবে, আমরা কেউ ভাবিনি।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমন ছিলেন অত্যন্ত মিশুক, পরোপকারী ও সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একটি ব্যক্তিগত কাজে সিলেট কোতোয়ালি থানায় গিয়েছিলেন ইমন। কাজ শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি পায়ে হেঁটে ফিরছিলেন। এসময় কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশ দেখে এক মাদক কারবারি দৌঁড় দেয়। পুলিশও তার পেছনে তাড়া করে। ঘটনাটি সচক্ষে দেখে ইমন তৎক্ষণাৎ পুলিশকে সহযোগিতা করতে ওই ছিনতাইকারীকে আটকে ফেলেন। কিন্তু ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ঘাতক তার কাছে থাকা ধারালো ছুরি ইমনের বুকে বসিয়ে দেয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ঘাতক আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটক বাপ্পী সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন কাজিরবাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। সে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত।
কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যেকোনো একজন সদস্য এই মামলার বাদী হতে পারেন। এক সাহসী সহযোদ্ধাকে হারিয়ে র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।