সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটে গরু সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ছবি : আমার সিলেট

সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ পশুর হাট কাজিরবাজার এবার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখেও আগের মতো জমে ওঠেনি। কোরবানির ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও বাজারজুড়ে নেই সেই চিরচেনা কোলাহল, নেই পশুর দীর্ঘ সারি কিংবা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ফলে শেষ মুহূর্তে এসেও বাজার মন্দা থাকায় ব্যবসায়ী ও ইজারাদার—উভয় পক্ষের মাঝেই এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে।

একসময় কোরবানির ঈদ ঘিরে এই বাজারের সামনের প্রধান সড়ক শেখঘাট পয়েন্ট থেকে তালতলা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকত পশুর হাট। সড়কের দুই পাশজুড়ে বসতেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা। বড় বড় ট্রাকে করে কুষ্টিয়া, মাগুরা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা হতো নামিদামি সব কোরবানির পশু। এমনকি একসময় এই হাটে উটও নিয়ে আসতেন ব্যবসায়ীরা, যা ছিল সিলেটবাসীর জন্য কোরবানির ঈদের বিশেষ আকর্ষণ। কিন্তু এবার সেই চেনা চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাটের নির্ধারিত স্থানের একটি বড় অংশ এখনো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। প্রধান শেডের ভেতরে কিছু গরু থাকলেও পুকুরপাড়ের মাঠ ও আশপাশের সড়কে তেমন কোনো পশু দেখা যায়নি। পশ্চিম দিকের মাঠেও হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী অল্প কিছু পশু নিয়ে অলস সময় পার করছেন।

সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটে এবার চিরচেনা সেই ভিড় নেই। ছবি : আমার সিলেট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজিরবাজার পশুর হাটটি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বেদখলে ছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে সিলেট সিটি করপোরেশন বাজারটি পুনরায় ইজারা দেয়। এবার বাজারটি ইজারা পেয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মাহবুব কাদির শাহী।

এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে বাজারে বড় আকারের পশু নিয়ে এসেছেন। মাগুরা থেকে আসা ব্যবসায়ী সাইরুল প্রায় এক ডজন বড় আকারের গরু নিয়ে আজ সোমবার সকালে কাজিরবাজারে পৌঁছান। তাঁর আনা একটি বিশাল আকৃতির কালো রঙের গরু বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মাঝে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাড়ে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।

বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দামও তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে মাঝারি আকারের গরুর জন্য ব্যবসায়ীরা ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম চাচ্ছেন। ৬০ হাজার টাকার নিচে কোরবানিযোগ্য কোনো সুস্থ গরু পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। অনেকেরই অভিযোগ, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়তি।

ক্রেতারা বলছেন, হাটে পশুর সরবরাহ কম থাকায় বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পশুর খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রাখাল খরচ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সিলেটে আসার পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই তাঁদের বাড়তি দাম চাইতে হচ্ছে।

বাজারের একজন কর্মচারী জানান, আজ সোমবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০টি গরু কেনাবেচা হয়েছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। হাটের খাজনা আদায়কারীরা জানান, ইজারাদার কর্তৃপক্ষ প্রতি হাজার টাকায় ৩০ টাকা হারে (শতকরা ৩ টাকা) হাসিল বা খাজনা আদায় করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোরবানির ঈদ একেবারে ঘনিয়ে আসলেও এখনো বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। তবে শেষ মুহূর্তে সিলেটে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ঢল নামে। তাই আগামী দুই দিনে হাটের এই চিত্র কিছুটা বদলাতে পারে এবং বেচাকেনা পুরোদমে জমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *