সিলেটে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সংগঠনে একযোগে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রনেতা আখলাকুজ্জামান লাহিন (মো. লাহিন তালুকদার)। এ অভিযোগের জেরে তাকে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৫ মে) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। এতে সংগঠনের আহ্বায়ক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী ও সদস্য সচিব আফসর খানের স্বাক্ষর রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লাহিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দক্ষিণ সুরমা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য পদে অন্তর্ভুক্ত হন লাহিন। এরপর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি জাতীয় ছাত্রশক্তির সিলেট মহানগর কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ লাভ করেন তিনি। ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত কমিটিতে তার নাম প্রকাশ করা হয়।

একই সময়ে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের সংগঠনের পদে সক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, একটি দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে অন্য সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ দলীয় নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের একাংশের দাবি, অতীতে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সিলেট মহানগর ছাত্রশক্তির আহবায়ক ফোন রিসিভ করনেনি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক মহলে আদর্শিক অবস্থান, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে আদর্শিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *