মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে ‘ঈদুল আজহায় কুরবানির পশুর চামড়া সফলভাবে সংগ্রহ’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য মাদ্রাসায় সরকারি বরাদ্দের লবণ বিতরণ করা হবে। মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ চামড়ার প্রক্রিয়াজাত না করলে সংশ্লিষ্ট চামড়া ব্যবসায়ীদের সেগুলো দেওয়া হবে। চামড়া যাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না থাকে এবং যথাসময়ে সংরক্ষণ করা হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
তিনি জানান, আগে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগে এক ধরণের অভিমান থেকে ‘কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সিলেটের বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের আহ্বানে মাদ্রাসাগুলো এবার চামড়া সংগ্রহে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মো. সারওয়ার আলম বলেন, দেশে যখন চামড়ার বেচাকেনা হবে, তখন সিলেটের চামড়াও বিক্রি হবে। আমরা আশা করছি, একটি চামড়াও অবিক্রিত থাকবে না।
চামড়া দান বা বিক্রির ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির পর পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চামড়া সংরক্ষণের উপযোগী করে তুলতে হয়। সময় যত বাড়বে, চামড়ার মান তত কমে যাবে। যেসব মাদ্রাসায় চামড়া সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত জনবল থাকবে না, তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শ্রমিক ও পরিবহন সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কাঁচা চামড়া সাত দিনের মধ্যে পরিবহন না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সিলেটে প্রতিবছর প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার পশু কোরবানি হয় এবং এবারও একই সংখ্যক পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কোরবানিকৃত পশুর চামড়া সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ চামড়া বিক্রি কিংবা দানে নিতেও অনিহা প্রকাশ করলে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে সেটি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এরপরও যাতে চামড়া নদীতে ফেলে কিংবা নষ্ট করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে সিলেটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে বা অবৈধভাবে কোনো পশুর হাট বসতে না পারে, সে বিষয়েও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্য থাকলেও সিটি করপোরেশন ৮ ঘণ্টার মধ্যেই নগর পরিষ্কার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) সুদীপ্ত রায় বলেন, ঈদ উপলক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নগরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগর পুলিশ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের সময় পর্যটকরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবেন না এবং নগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকবে
#