
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পায়েল মিয়া (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাহেরা বেগম (৪৫) নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে মুমূর্ষ অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৭ মে) শাল্লা উপজেলায় আওয়াল নুর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার প্রকাশ্যে সংঘর্ষের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং বুধবার উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে সাইদুর রহমান গ্রুপের সদস্য পায়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের মধ্যে তাহেরা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, জমিতে গরুর খাবার দেওয়া নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আগে থেকেই পাল্টাপাল্টি মামলা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়াল নূর গ্রুপের লোকজন তাঁদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে একজন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়াল নূর বলেন, সাইদুর গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নদীর পাড়ে মহড়া দিচ্ছিল। তারা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে এখন তাঁদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে যাওয়া হয়নি।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান বলেন, “পায়েল মিয়া নামে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। গুরুতর আহত এক নারীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ