
নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) জ্যাকসন হাইটস সোসাইটি নিউ ইয়র্ক, আমেরিকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গিয়াস আহমেদ সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া, আব্দুস সবুরসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।
আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীকালে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তারা তার কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দোয়া মাহফিল ও গণভোজ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে আগত অতিথি ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। এ সময় তিনি গণভোজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয় এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয় ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আয়োজকরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের মাধ্যমে প্রবাসীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।