
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় লোকজ উৎসব চড়ক পূজা।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের খলাহাটি গ্রামবাসীর আয়োজনে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
চড়ক পূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, নাছের উজ্জ্বল ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মহিবুল ইসলাম।
এছাড়া আয়োজক কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সজল বর্মন, রতন গাঙ্গুলী, মিহির রঞ্জন, সত্যময় বর্মন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক চড়ক পূজা। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তাহিরপুরে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে এই আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
স্থানীয় ভক্ত ও আয়োজকরা জানান, চড়ক পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি কষ্টসাধ্য ও সাহসী ধর্মীয় আচার। প্রকৃতির মঙ্গল, মানবকল্যাণ ও দেবতার আশীর্বাদ কামনায় যুগ যুগ ধরে এই পূজা পালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান, ভক্তদের শারীরিক কৃচ্ছ্রসাধন এবং লোকজ প্রদর্শনী উৎসবটিকে অনন্য মাত্রা দেয়।
খলাহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও অনুষ্ঠানটির অয়োজক সজল বর্মন বলেন, আমাদের উপজেলায় এরআগে কোনদিন এত বড় পরিসরে চড়ক পূজার আয়োজন করা হয়নি, এবারই প্রথম। এতে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।
খলাহাটি গ্রামের ভক্ত রতন গাঙ্গুলী বলেন, চড়ক পূজা আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতির অংশ। নতুন প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রাচীন এই লোকজ উৎসব দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মিনি স্টেডিয়াম মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।