মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি জনগণের সরকার সবার কল্যাণে কাজ করতে চাই

বিএনপি জনগণের সরকার সবার কল্যাণে কাজ করতে চাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছে জনগণ সিন্ধান্ত নিয়েছেন আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে বিএনপি ।  বিএনপি জনগণকে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না। আমার প্রশ্ন জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদেরবিরুদ্ধে তা হলে কি করা উচিত? তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। মনে আছেতো ৭১ ও ৮৬ তে তারা কি করেছিলো। এক যুগ যে আন্দোলন চলেছিল সেই আন্দোলনের কোথাও তাদেরকে আমরা দেখি নাই। আজকে যদি আন্দোলনে শহীদদের তালিকা বের করা হয়। দেখা যাবে যে ছাত্রটি গুম খুনের শিকার সে ছাত্রদলের কর্মী। সে যুবকটি যুবদলের কর্মী। বিনা অপরাধে জেল যে মানুষটি জেল খেটেছে মামলার বোঝা মাথায় করে বয়ে বেড়িয়েছে সে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কর্মী। বিগত ১৭ বছর ধরে আমরা দেখেছি, কিভাবে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছিল। সারা দেশ দেখেছে। সারা পৃথিবী দেখেছে ও স্বাক্ষী দিয়েছে।  একটি দল জনগণের টাকা জনগণকে না দিয়ে দেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছিল। দেশের টাকা,জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেওয়া হবেনা। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তা রুখে দিব। দেশের মানুষের অর্থ। দেশের মানুষের সম্পদ এই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। যারা বলে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় টাকা কোথায় পাবে তাদের জন্য এই হচ্ছে আমার জবাব।

তিনি বলেন দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য টাকার কোন অভাব হবে না। যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তিনি দৃপ্তকন্ঠে বলেন,এদেশ থেকে জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেয়া হবে না।

গতকাল  (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল মাঠে ও বিকেল ২.৩০ টার দিকে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন আমরা দেশেকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। বর্তমান সরকারের একটাই কাজ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন। এজন্য দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।

তিনি উপস্থিত জনতার উদেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন ‘এই ভাইয়েরা-আপনারা কি চান? বিএনপি যে কাজগুলি করছে, এই কাজগুলি আগামী ৫ বছর অব্যাহত থাকুক’? আপনারা কি চান দেশের সকল মায়ের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড,কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেই? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেই। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করি। এসময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে সমস্বরে সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী জনতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,আমরা সংসদে বাজেটে নূন্যতম স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতে স্কুল কলেজে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে, খেলাধুলা করতে পারে- তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনেকে বলেছে সেই বাজেট না-কি তারা মানে না। বাজেটে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। কৃষকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। মায়েদের ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রেখেছি। স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য,সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য,অসুস্থ, প্রতিবন্ধী মানুষর জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি।  সেই বাজেট না-কি চানাচুরের মতো।

তিনি বলেন এই বাজেট জনগণের বাজেট। যে বাজেটে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরির্তন করতে চাই সেই বাজেটকে তারা গণবিরোধী বাজেট বলে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে আমরা মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি,৬০টি নিত্যপণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তারা এর বিরোধীতা করলে আমরা তা কন্টিনিউ করতে পারবো না। দেশের মিল কারাখানা রক্ষায়, দেশের বেকার ছেলে মেয়েরা যাতে চাকরির সুযোগ পায় সেজন্য দেশে উৎপাদন হয় এমন পন্য বিদেশ থেকে আমাদানী করতে বাজেটে শুল্ক আরোপ কমানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি গরীব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ৪০ লক্ষ কৃষকে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। ২২ লক্ষ শিশু কিশোর শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা এই ধারা অব্যাহত রেখে তাদের মেধার মূল্যালয়ন করতে চাই।

প্রধানমনন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম বিএনপি ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন করলে পর্যায়ক্রমে সকল পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী পরিবারের প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। আমরা নির্বাচনের সাথে সাথে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যারা আজ কার্ড পেয়েছেন প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের কাছে ফ্যমিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেয়া হবে। তিনি বলেন,পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এজন্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।

ইতোমধ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দির-গির্জার ধর্মীয় প্রধান, পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানি চালু করা হয়েছে। আগামী বছরে প্রতি উপজেলায় ৮ হাজার জনকে এই সম্মানি দেওয়া হবে। ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন করা হবে। বেকার যুবককদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে শিল্প-কারখানাসহ নানা কর্মসংস্থান তৈরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের মানুষ শান্তি চায়। স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। দরিদ্রতা ও বেকারত্বের অবস্থান থেকে মুক্তি চায়। কাঙ্খিত উন্নয়ন চায়। গণতন্ত্র  ও বাকস্বাধীনতা চায়। এমন চাওয়া বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। বিএনপি জনগণের দল। বিএনপির শক্তির উৎস হলো জনগণ। জনগণ সাথে ছিলো বলে ২০২৪ সালে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে তাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ৭১ সালে দেশ স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে। তাই দেশের জন্য জনগণের জন্য দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য আমরা কাজ করতে চায়। একটি দল বলছে সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবেনা। তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছেন না তাদের স্বার্থে। আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। জনগণের সাথে আমাদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব।  জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তাই জনগণ আমাদের সাথে থাকলে অপপ্রচারকারী-ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারবে না। আমরা যেকোনো মুল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব-ইনশাআল্লাহ।

মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বক্তব্যের রাখার আগে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ তেলওয়াত করে বাটন চেপে সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। এবং একই সাথে ২০ টি জেলার তৃতীয় পর্যায়ে ৯০৮২ জন উপকারভোগির মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। এসময় অন্যান্য ১৯টি জেলার উপকারভোগিরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিয়াস, ষ্ট্রোক প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থেলাসিয়াসে আক্রান্ত প্রতিজনে ৫০ হাজার, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা নৃ জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে ১০ হাজার করে, ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা নৃ জনগোষ্ঠীর  শিক্ষার্থীদের প্রতিজনে ১০ হাজার, চা শ্রমিকদের টেকসই আবাসন নির্মানে প্রতিজনে ২ লাখ করে এবং দুঃস্থ অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন বিশেষ অনুদানের আওতায় প্রতিজনে ১০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর সঞ্চালনায় ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য গয়েশ্বর রায়, সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ, সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী,সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু,নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, সংসদ সদস্য জহরত আদিবা চৌধুরী,প্রধানন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান,মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান,জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন,সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার,বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক মিফতা সিদ্দিকী,সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি’র প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ। প্রবল বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া মধ্যেও দু’টি স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে ও তাকে বরণ করতে হাজার হাজার জনতার উপিস্থিত ছিলো লক্ষণীয়।

সিলেট থেকে সড়ক পথে মৌলভীবাজার আসার সময় রাস্তার দু’পাশে দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এসময় প্রধানমন্ত্রীও তাদের সালাম ও অভিবাদনকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান।

 

 

বাংলাদেশ/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৮
  • ১১:৫৬
  • ৪:৩২
  • ৬:৪৪
  • ৮:১০
  • ৫:০৪