
মরক্কো ম্যাচ ভুলে দারুণ এক জয়। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের দিকে এক পা এগিয়ে রাখলো ব্রাজিল। জয়, সাম্বা, আত্মবিশ্বাস সবই ফিরে এসেছে, তারপরও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই কার্লো আনচেলত্তির দল। কারনও আছে। হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েও গ্রুপ পর্ব পেরুনোর চিন্তা থাকছে ব্রাজিলের। আর খেলার মান! আজ সকালে হয়ে যাওয়া ম্যাচ মানের বড় এক প্রশ্নই দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। আশি ধাপ পেছনে থাকা হাইতির বিপক্ষে কি খেললো ব্রাজিল?
গোলের হিসেব একপাশে রেখে ৯০ মিনিটের পুরোটায় চোখ ফেরালে ব্রাজিলকে চেনা কঠিন! তিন গোলের তিনটিই এসেছে ম্যাচের প্রথমার্ধে। প্রথম দুই গোল তো হাইতির গিফট! মাঝমাঠে ইচ্ছেকরেই যেন বলের দখল হারান হাইতির দুই খেলোয়াড়। সেই সুযোগ ব্রাজিল কাজে লাগায় কাউন্টার এ্যাটাকে। দুটি গোলই করেন মাতেউস কুনহা। প্রথম হাফের শেষ মিনিটে আসে শেষ গোলও। পরের ৪৫ মিনিটেও কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগ তৈরি করেন ভিনিসিয়ুস, পাকেতা, কাসেমিরোরা। কিন্ত বক্সের ভেতর থেকে, পোস্টের একেবারে কাছ থেকে সেইসব সুযোগ থেকে গোল পায়নি ব্রাজিল।
দ্বিতীয় হাফে উল্টো ব্রাজিলকে চেপে ধরে হাইতি। ছোট ছোট পাসে, গতি আর ড্রিবলিংয়ে তাক লাগিয়ে বারবার ব্রাজিল সীমানায় হাইতির একের পর এক আক্রমণ। তবু গোল আসেনি দুই- একজন ফিনিসারের অভাবে। হাইতির না হয় ভালো কোন স্কোরার নেই, স্কটল্যান্ডের যে থাকবে না এটা তো বলা যায় না। হাইতিকে উড়িয়ে দিয়েও এখন স্কটল্যান্ডকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। ব্রাজিলের নকআউট পর্বে যাওয়ার রাস্তায় শেষ বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্কটিশরা। সমান দুই ম্যাচ খেলে ব্রাজিলের পয়েন্ট চার, স্কটল্যান্ডের তিন। গ্রুপ সি’তে থাকা আরেক শক্তিশালী দল মরক্কোর পয়েন্টও চার।
হাইতি ছাড়া নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ আছে তিনদলেরই। মরক্কোর জন্য যাওয়াটা যত সহজ, ব্রাজিল, স্কটল্যান্ডের জন্য ততটাই কঠিন। গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে হাইতিকে পাচ্ছে মরক্কো। ব্রাজিল আর স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হবে কঠিন এক লড়াইয়ে। যেখানে ব্রাজিলের অবশ্য ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত হয়, স্কটল্যান্ডের জয়ের বিকল্প নেই। মরক্কোও যে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারছে সেটা বলা যাচ্ছে না। স্কটল্যান্ড ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলে আর মরক্কোর বিপক্ষে হাইতি যদি অঘটন একটা ঘটিয়ে দেয় তাহলে তো আশরাফ হাকিমির দলই বাদ পড়ে যায় গ্রুপ পর্ব থেকে! অনেক যদি কিন্তুর সি গ্রপের শেষের নাটকীয়তা দেখতে অপেক্ষায় থাকতে হবে ২৫ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত।