স্কালোনির পরীক্ষার ম্যাচেও মেসি ম্যাজিক!

বেঞ্চের শক্তি দিয়েও তাহলে বিশ্বকাপের ম্যাচ জেতা যায়! মেসি নেই, নেই ডি পল, ম্যাক এ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ সহ আগের ম্যাচের নয় জন। লায়নেল স্কালোনি পরীক্ষা নিলেন বেঞ্চের। পরীক্ষায় একশতে একশ পেয়ে পাস নিকোলাস ওতামেন্দি, জিওভান্নি লো সেলসো, সিমিওনে, হুলিয়ান আলভারেজরা। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিকল্প একাদশ খেললো একেবারে নিখুঁত ছন্দময় ফুটবল। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, রিস্কি পাস নেই, অকারণে বল পেছনে টেনে এনে দলকে ঝুঁকিতে ফেলার মানসিকতা নেই। স্কালোনির এই একাদশই তো সেরা। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। মেসি মাঠে নেই। কিন্তু মেসির ছায়া হয়ে যেন এলেন জিওভান্নি লো সেলসো। আর্জেন্টাইন জাদুকরের মতোই তাঁরও বাঁ পায়ে সকল শক্তি আর ছন্দ। মেসির মতোই ফ্রি-কিক নিলেন সেলসো। সেই বাঁকানো শট, একেবারে সাগরের ঢেউয়ের মতো! যা মুহূর্তে একটা শব্দ তুলে হারিয়ে যায় বাতাসে, এরপর আশ্রয় নেয় তাঁর প্রিয় ঠিকানায়- প্রতিপক্ষের জালে। সেলসোর গোলের পর টিভি ক্যামেরা খুঁজে নিল লিওনেল মেসিকে। সহজ, সরল চেহারায় যেন অবিশ্বাসের ছাপ। হয়ত ভাবছিলেন, আমার দলে আমারই মতো গোল করার মানুষও দেখছি আছে তাহলে! ভাবার কথাও। আজ সকালে হয়ে যাওয়া জর্ডান ম্যাচের আগে গ্রুপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার সাথে খেলেছে আর্জেন্টিনা। সেই দুই ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা করেছে পাঁচ গোল। পাঁচটি গোলই মেসির! জর্ডান ম্যাচ তাই অন্যদের কাছে ছিল নিজেদের প্রমাণের, স্কালোনির কাছে ছিল বেঞ্চের পরীক্ষা। পরীক্ষায় জানা গেল, মেসি ছাড়াও এই দলে গোল করার মতো ফুটবলার আছেন, আছে বিকল্প একাদশ নামিয়ে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও।
প্রথম হাফেই আরেকটি গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলের উৎস সেই লো সেলসো। যিনি গত বিশ্বকাপ মিস করেছেন ইনজুরিতে পড়ে। এবার প্রথম ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করলেন। তাঁর কল্যাণেই পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক থেকে গোল করলেন টানা তিন ম্যাচে নিস্প্রভ লাউতারো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে দুই গোল এলো, আর্জেন্টিনার বিকল্প একাদশ খেললো মূল দলের চেয়েও দেখার মতো ফুটবল। তবু যেন এই ম্যাচে ঠিকমতো আলো জ্বলেনি। ডালাসের মায়াবী মাঠ যেন কাকে ডাকছিল। সেই ডাক শুনতে পেয়েই নামলেন ফুটবল জাদুকর। ম্যাক এ্যালিস্টার, এচেভেরিকে নিয়ে জর্ডান সীমানায় একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুলেন। কিন্তু এসব থেকে গোল আসছিল না। তাই বরাবরের মতো নিজেই গোলের দরজা খুলেন মেসি। তাঁকে আটকাতে গিয়ে বক্সের কিছুটা বাইরে ফেলে দেন জর্ডান ডিফেন্ডার। ফ্রি-কিক পেল আর্জেন্টিনা। মেসি মাঠে থাকলে তো এই কিক তিনিই নিবেন। যে ফ্রি-কিক থেকে গোল করা বেশিরভাগ ফুটবলারের কাছেই স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু মেসি সেটি করেন একেবারে সহজে! একেকটা কিক যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ানো, মোনালিসার হাসির মতোই সুন্দর! আজ সকালেরটাই দেখুন। স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনুন মেসির বাঁ পায়ের জাদু। সামনে চীনের প্রাচীরের মতোই জর্ডানের দেয়াল। এর পাশ দিয়ে সুঁইয়ের মতো একটুখানি জায়গা! জর্ডান গোলকিপার হয়ত মনে করেছিলেন দেয়ালের ওপর দিয়েই মেসি মারবেন তাঁর ট্রেডমার্ক কিক। কিন্তু বিশ্বের সেরা ফুটবলার বেছে নিলেন সুইয়ের মতো সেই একটুখানি ফাঁককে। বাতাসে বাঁক খাওয়ানো শটের বিপরীতে মাটি কামড়ানো নিখুঁত নিশানা। জীবনের সেরা ধোঁকাটাই হয়তো খেলেন জর্ডান কিপার। এই গোলে মেসি উঠলেন বিশ্বকাপের আরো চুড়ায়। ২৯ ম্যাচে ১৯ গোল। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে আগেই ছাড়িয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে এগিয়ে গেলেন তিন গোলে। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার একক কৃতিত্ব এখন মেসির! সৃষ্টিকর্তা সময়ে সময়ে একেকজনকে অমরত্ব দিয়ে রাখেন। না হলে কি আর মরণব্যাধি থেকে সেরে ওঠে রেকর্ডে রেকর্ডে নিজেকে ফুটবলের চূড়ায় তুলেন মেসি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৩৯
  • ১১:৫৮
  • ৪:৩৪
  • ৬:৪৭
  • ৮:১৩
  • ৫:০৫