সিনেমার মতো শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা!

শেষটা সিনেমার মতোই! কিছুটা উত্তেজনা, কিছু মারামারি, বিচারকের অগ্নিমূর্তি আর শেষ ১৪ মিনিটের এ্যাকশন! যে এ্যাকশনে স্বপ্নের আকাশে উদিত হওয়া কালো মেঘ উড়ে গিয়ে স্বস্থির নিশ্বাস। আর্জেন্টিনা ৩- মিশর ২! লিওনেল মেসি অবশ্যই প্রধান চরিত্র। তার সহকারী হিসেবে অভিনয় করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোমেরো আর এনজো ফার্নান্দেজ। কলাকুশীলব আরো অনেকে- ম্যাক এ্যালিস্টার, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকো গনজালেজরা। সবাই মিলে সিনেমার স্বার্থক রুপায়ন। লিওনেল মেসি নায়ক হওয়ার আগে খলনায়কের ভূমিকায়! সকল হিসেব উল্টে দিয়ে মিশর তখন ১-০ গোলে এগিয়ে। তাগলিয়াফিকোর সৌজন্যে পেনাল্টি পেল আর্জেন্টিনা। ফ্রি-কিক আর স্পট কিক যার কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ কাজ সেই মেসিই স্পট কিক নিতে গেলেন। কিন্তু টানা দুই ম্যাচের চিত্রনাট্য যেন আগে থেকেই কে লিখে রেখেছে। মেসি পেনাল্টি মিস করবেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পিছিয়ে পড়বে, ঘুরে দাঁড়াবে এবং একেবারে শেষে এসে ম্যাচটা জিতে যাবে! কেপ ভার্দের বিপক্ষে যেমন মিশরের সঙ্গে ম্যাচেও তেমন। দুটি ম্যাচই জীবম- মরন। একটু এদিক, সেদিক হলেই স্বপ্ন, সম্ভাবনা সব শেষ। সেই শেষের গানই শুনতে পাচ্ছিলেন মেসিরা। মিশর তো এককাঠি এগিয়ে। দুই অর্ধ্বে দুই গোল দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেয় মোহামেদ সালাহর দল। আর্জেন্টিনার অতীত ইতিহাস বলে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা খুব কমই। আর এটা তো বিশ্বকাপের ম্যাচ। যেখানে পরিসংখ্যান, শক্তি, অভিজ্ঞতা শুধু কাগুজে হিসেব, মাঠে খেলেই এসবের প্রমাণ দিতে হয়। প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। ৭৯তম মিনিটের খেলা চলছে। বাকি যে সময় পায়ে পায়ে বল রেখে কিংবা টাচ লাইনের বাইরে উড়িয়ে মেরে পার করা যায়। এই সহজ কাজটা করতে পারলেই তো পিরামিডের সপ্তম আশ্চর্যের মতো এক জয় তুলে নেয় মিসর! তবে সবকিছু তো আর চাইলেই হয় না। অদৃশ্য এক সুতোয় ঝুলে থাকে ভাগ্য। জয়, পরাজয়, সুখ, দু:খ, সাফল্য সবকিছুর ফয়সালা আসে রহস্যঘেরা অন্যলোক থেকে! তাই ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ ১৫ মিনিটে দুই গোলের জবাব তিন গোলে দিয়ে জিতে নেয় ম্যাচ!

দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করলেন লিওনেল মেসি। ক্লাব কিংবা দেশের হয়ে তাঁর যত গোল, তাতে উল্লাস ওতটা বাঁধভাঙা হয় না। কিন্তু কাল গোল করে শূণ্যে ভাসলেন, মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুঁড়ে দিলেন গ্যালারীর দিকে! এ যেন শাপমোচনের উল্লাস। এর আগে ৭৯ মিনিটে রোমেরোর গোল। যে রোমেরো আগের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন। ৮৪ মিনিটে মেসির গোলে খেলায় ২-২ সমতা। এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের দারুণ এক হেডে আর্জেন্টিনা ৩- মিশর ২! টানা দুই ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৪
  • ১২:০১
  • ৪:৩৭
  • ৬:৪৮
  • ৮:১৪
  • ৫:১০