
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই নেতার মারধরের ঘটনায় আহত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারকে দেখতে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসার সার্বিক ব্যয় বহনের আশ্বাস দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হলের ডাইনিং ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপাচার্য শাহপরান হলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর কক্ষে তাকে দেখতে যান। এর আগে সকালে তিনি ফোনে শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
এ সময় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আগত তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম আহত শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম আহত শিক্ষার্থীর সাথে আলাপকালে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি শিক্ষার্থীর খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি শাহপরান হলের ডাইনিং এ খাবারের মান এবং সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। হলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে খাবারের গুণগত মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
হলের খাবার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, শিগগিরই আবাসিক হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপনা ‘মেস সিস্টেম’-এর আদলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে দ্রুত একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়ের হল পরিদর্শনকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর ও তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন সিকদার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ এবং সহকারী প্রক্টর ও আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মাসুদ আলমসহ হলের সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে উক্ত বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



