
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টন ও দলের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী ও তার ছোট ভাই মাসুক চৌধুরীর মধ্যে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, একের পর এক দলীয় কর্মসূচি থেকে একে অপরকে বর্জন এবং জেলা ও কেন্দ্রে অব্যাহতি-বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর মাধ্যমে দুই ভাই ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
জানা যায়, এমপি নাছির চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তিনি শারীরিকভাবে চলাচলে অক্ষম। তার অনুপস্থিতিতে একটি পক্ষের মাধ্যমে সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার। অন্যদিকে অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এমপি নাছির চৌধুরীর ছোট ভাই এবং উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী)।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেও দিরাইয়ে বিএনপি চার ভাগে বিভক্ত ছিল। তৎকালীন মনোনয়নপ্রত্যাশী চার গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন—বর্তমান সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী, তার ছোট ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), সাবেক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি এবং অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল। পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকে নাছির চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে যৌথভাবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে হাইকমান্ডের নির্দেশে পাবেল প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে নাছির চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নাছির চৌধুরী এমপি হওয়ার পর তার প্রভাব ও এলাকা পরিচালনায় ছায়া সঙ্গী কে হবেন, তা নিয়েই দ্বন্দের সূচনা। অসুস্থতার সুযোগে পুরো নিয়ন্ত্রণ এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তারের হাতে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন আহ্বায়ক আমির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির।



