অনুসন্ধানী প্রতিবেদন : পর্ব-২

আবাসনের চেয়ারম্যানকে নিয়ে চলছে সার্কাস, এমডির বেপরোয়া ভুমিকায় রহস্য

আবাসনের চেয়ারম্যানকে নিয়ে চলছে সার্কাস, এমডির বেপরোয়া ভুমিকায় রহস্য

আবাসনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন তিন সপ্তাহ আগে সিলেটে পৌঁছেছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শেরীন আবাসনের বৈধ চেয়ারম্যান। তিনি কোম্পানির সহযোগিতায় বিদেশে তৎপর ছিলেন। তবে দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি কোম্পানির পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে এক রহস্যজনক আচরণ লক্ষ্য করছেন। কতিপয় পরিচালক এর পরামর্শের কারণে এমডি বেপরোয়া ও রহস্যময় আচরণ করছেন চেয়ারম্যান এর। আমার সিলেটের ফেইসবুক পেইজে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এবার আবাসনের এমডি আগামী পহেলা আগস্ট সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সভা আহ্বান করেছেন। তিনি কথা বলেছেন চেয়ারম্যান শেরীনের সাথে। ফলে কোম্পানির চেয়ারম্যান শেরীনকে নিয়ে শুরু হওয়া সীমাহীন সার্কাস এর নয়া মেরুকরণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহবুবুল হক শেরীন শুরু থেকেই ‘আবাসন অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ডেভেলপারস এর চেয়ারম্যান। তাকে কখনোই পদচ্যুত করা হয়নি কিংবা অনাস্থা প্রস্তাব এনে সরানো হয়নি। অন্যদিকে, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল হামিদকে নানা অনিয়মের অভিযোগে অপসারণ করা হয়েছিল।

এদিকে, ২০১৫ সালে কোম্পানির একটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ডেকে এমডি ফতেহ আহমদের পরিবর্তে আহবাবুর রহমান খানকে এমডি এবং মাহবুবুল হক শেরীনের পরিবর্তে আবদুল হামিদকে চেয়ারম্যান করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। তবে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (যৌথ স্টক) পৃথক চারটি আপত্তির কারণে তারা দায়িত্ব নিতে পারেননি। পরবর্তীতে আরেকটি এজিএম আয়োজন করা হয়। সেখানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামসুল হককে চেয়ারম্যান এবং ফতেহ আহমদ চৌধুরীকে এমডি করে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেই পরিবর্তনও কার্যকর হয়নি।

২০২৪ সালে কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীনের অনুমোদন ছাড়া এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই একটি অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। এ নিয়ে কোম্পানিতে জটিলতা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক পরিচালকের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা হয় এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে কোম্পানির নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম চালানো শুরু হয়।

বর্তমানে সেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী পরিচালককে বাদ দিয়ে এবং চেয়ারম্যানকে তোয়াক্কা না করে কোম্পানির ভেতরে গোপন তৎপরতা শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যানকে নিয়ে চলছে সীমাহীন সার্কাস। এমডি ফতেহ আহমদ শাহীন বেপরোয়াভাবে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন এবং তিনি চেয়ারম্যান শেরীনকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না।

ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, যৌথ স্টকের ফাইলে মাত্র ৩-৪ জন পরিচালকের মূল (অরিজিনাল) স্বাক্ষর রয়েছে। বাকি সবার স্বাক্ষর জাল করে দুটি কোম্পানি নিবন্ধন করা হয়েছে। বারবার স্মারকপত্র (মেমোরেন্ডাম) পরিবর্তন করা হয়েছে, যার ওপর চারটি আপত্তিও রয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় চেয়ারম্যান শেরীনকে বাদ দিয়ে কোনো পরিবর্তনের ঝুঁকি কি ফতেহ আহমদ চৌধুরী শাহীন নিতে চাচ্ছেন? তিনি কি কোনো চ্যালেঞ্জ কিংবা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে যাচ্ছেন?

কোম্পানিতে নতুন করে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবেন এমডি শাহীন নিজেই।

এদিকে সাবেক এমডি আবদুল হামিদের কাছে কোম্পানির যে পাওনা রয়েছে, সে বিষয়ে এমডি শাহীন কেন কোনো নোটিশ জারি করছেন না—তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। একটি সূত্রের মতে, কোম্পানির রেজুলেশন অনুযায়ী দুই দফায় দুটি করে মোট চারটি শেয়ার সমর্পণ (সারেন্ডার) করেছেন আবদুল হামিদ। ফলে আবাসনের দুটি কোম্পানির একটিতেও বর্তমানে তার কোনো শেয়ার নেই।

আবদুল হামিদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের ব্যাপারে ফতেহ আহমদ চৌধুরীর উচিত একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা। তাহলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না।

মূলত কোন মতলবে চেয়ারম্যান শেরীনকে নিয়ে এই সার্কাস চালানো হচ্ছে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা রহস্য।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৩
  • ১১:৫২
  • ৪:১৫
  • ৬:০৩
  • ৭:১৭
  • ৫:৩৭