
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘অনেকে বলে আওয়ামী লীগ নাকি আসবে। কোথা থেকে আসবে তারা? আগামী আগস্ট মাস আসতেছে। ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দিতে হবে। যদি আমরা বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ শান্তি পাবে।’
শুক্রবার রাতে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারে জুলাই পদযাত্রার শেষ পথসভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এনসিপির তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রদল বা যুবদল করলে চাকরি পাওয়া যাবে এমন কোনো ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হলে তরুণ সমাজ তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, ‘নব্য ছাত্রদল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে মেধার পরীক্ষায় চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে যদি এমন কোটা চালু করা হয় ছাত্রদল করলে চাকরি হবে, যুবদল করলে চাকরি হবে তাহলে আমরা সতর্ক করে দিতে চাই, এটা মেনে নেওয়া হবে না।’
গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন দখলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করা হলে জনতা আবার রাস্তায় নামবে এবং ‘ছাত্রদল-যুবদল কোটা’ বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিদায় করবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমতা ছেড়ে দেন।’ তিনি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে দখল ও সন্ত্রাসের চর্চা শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
সভায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের ভুল বিষয় নিয়ে সমালোচনার কারণে কেউ রড নিয়ে হামলা করলেও তাঁরা কথা বলা বন্ধ করবেন না।
সারজিস আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ভুলকে প্রশ্ন করার সাহস রাখতে হবে। আমরা ভুল করলে আমাদের ভুল ধরিয়ে দেবেন। আমরা সংশোধন করে নেব। কিন্তু যারা ক্ষমতায় আছে, তাদের প্রশ্ন করা যদি ভুলে যাই, তাহলে মনে রাখবেন তারাও একদিন না একদিন স্বৈরাচার হয়ে উঠবে।
ঢাকায় এনসিপির বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, একজন ব্যক্তির কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের মানুষের বাক্স্বাধীনতাও রক্ষা করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সমালোচনার কারণে প্রধানত বিক্ষোভ মিছিলটা করা হয়েছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে। একজন ব্যক্তি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কথা বলার স্বাধীনতা দিতে না পারলে আগামীর বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষের বাক্স্বাধীনতা কীভাবে রক্ষা করবেন?’
সম্প্রতি এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গত কয়েক দিনে তাঁদের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে।
হবিগঞ্জে এনসিপির এক কর্মীর ওপর হামলার কখা জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদলের কিছু কর্মী রড দিয়ে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের চোখে আঘাত করেন।

কোম্পানীগঞ্জের পথসভায় হাজার হাজার জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন
এর আগে বিকেলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাটে পদযাত্রার পথসভা হয়। পথসভায় তিন উপজেলাতেই এনসিপির তিন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্ববান জানানো হয়। পথসভায় এনসিপির মহিলা সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, সিলেট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. জুনেদ আহমদ, কামরুল আরিফ, মহানগরের সদস্য সচিব কিবরিয়া সারওয়ারসহ উপজেলার নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন।

গোয়াইনঘাটের পথসভা
শুক্রবার রাতে পথসভা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁর দাবি, গাড়ির কাচ ভেঙে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও একজন আহত হয়েছেন।
গোয়াইনঘাটের পথসভায় উপস্থিত জনতার একাংশ
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, পুলিশ প্রহরায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের জৈন্তাপুর সীমানা পার করে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
পরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। সেখানে তাঁরা হামলার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পথসভা শেষে তাঁরা গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পথসভা স্থল থেকে তিন-চার মিনিট পর চলন্ত গাড়িতে বড় ধরনের শব্দ হয়। পরে তিনি হাতে আঘাত পান। ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁর সঙ্গে থাকা একজন আহত হন এবং রক্তাক্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
হামলার জন্য তারেক রহমানকে দায়ী করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনি মস্ত বড় একটা ভুল করেছেন এবং এই ভুলের কাফফারা দিতে হবে।’



