জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিকে লাঞ্ছনার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কার্যালয়। কনস্যুলেটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের অতিথি নূর হোসেনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় আনুষ্ঠাকি বিবৃতি দিয়েছে কনস্যুলেটের কার্যালয়। এতে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনকালে আমন্ত্রিত অতিথি নূর হোসেন প্রামাণ্যচিত্রের একটি বিষয়ে ভিন্নমত ব্যক্ত করেন। তার বিপরীতে আমন্ত্রিত অতিথিদের আরও দু’একজন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্য কনস্যুলেট দুঃখ প্রকাশ করছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কনসাল জেনারেল আজ দুপুরে জনাব নূর হোসেনকে কনস্যুলেটে আমন্ত্রণ জানান এবং উদ্ভূত ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
কনস্যুলেট মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি সর্বজনীন ও মৌলিক অধিকার। কোনো মতামতের সঙ্গে একমত বা ভিন্নমত পোষণ করা স্বাভাবিক; তবে সকলের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কনস্যুলেট মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং এ অধিকারটির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
একই সঙ্গে, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের সৌহার্দ্যপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও কনস্যুলেট অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে কনস্যুলেট প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছ থেকেও সংযম, দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে, ভবিষ্যতে কনস্যুলেটের আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে ‘আমন্ত্রণপত্র’ ও শুধুমাত্র আমন্ত্রিত ‘অতিথি-তালিকার’ ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কনস্যুলেট আশা করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সকল অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।