সিলেট নগরীর ব্যস্ততম আম্বরখানা মোড় এলাকায় ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করতে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো একটি কাটা পা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করার সময় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটি উদ্ধার করে।
এর আগে গত বুধবার সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। একদিনের ব্যবধানে কাটা পা উদ্ধঅরের ঘটনায় মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাটা পা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ঘটনাস্থলের আশপাশে মানুষের জটলা তৈরি হয়। আকস্মিকভাবে এমন একটি মানবদেহের অংশ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে এটি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আম্বরখানা মোড় এলাকার একটি ময়লার স্তূপে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ওই এলাকার ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁদের নজরে আসে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা সেটি খুলে দেখেন। তখন ভেতরে একটি কাটা পা দেখতে পান।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হতে থাকেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে সিলেট বিমানবন্দর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটি উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা পাটি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এটি কাটা হয়ে থাকতে পারে। কোনো রোগীর চিকিৎসার অংশ হিসেবে অস্ত্রোপচারের পর পাটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাটি পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাটি অস্ত্রোপচার করে কাটা হয়েছে। কোনো অসুস্থতার কারণে অস্ত্রোপচার করে পাটি কাটা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। পাটি কোথা থেকে ময়লার স্তূপে এল, সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’
কাটা পা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও আতঙ্ক তৈরি হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে না। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চিকিৎসাজনিত কারণে কোনো ব্যক্তির পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলার পর সেটি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগে পুলিশ কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না। উদ্ধার করা পাটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নগরের ময়লার স্তূপ থেকে মানুষের শরীরের একটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলা হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের পর শরীরের কাটা অংশ কোথায় এবং কীভাবে সংরক্ষণ ও ধ্বংস করা হয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
আম্বরখানা নগরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। এমন একটি স্থানে ময়লার স্তূপ থেকে কাটা পা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পাটি কোথা থেকে এসেছে এবং কে বা কারা সেটি ময়লার স্তূপে ফেলেছে, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা অন্য কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
এদিকে কাটা পাটি উদ্ধারের ঘটনায় কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি বা সাম্প্রতিক কোনো অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও পুলিশ যাচাই করছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
পাটি উদ্ধারের প্রকৃত কারণ ও উৎস তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



