ইসলাম গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন। কুরআন মুখস্থ করার এই অসাধারণ সাফল্যের পর এবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
৬ আগস্ট থেকে পবিত্র মক্কায় শুরু হয়েছে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা। আগামী ১৯ আগস্ট (৬ রবিউল আউয়াল) পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ ঘটেছে।
পেন্ট্রা বুশিমা আমিন মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর মাধ্যমে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হন। বন্ধুর আহ্বানে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ইসলামের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন পেন্ট্রা।
একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবারের আরও চার সদস্য—বাবা, মা ও এক বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর পবিত্র কুরআন শেখা ও মুখস্থ করার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় পেন্ট্রার। শুরু হয় তাঁর হিফজের যাত্রা। অদম্য আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন।
কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার পরও থেমে থাকেননি পেন্ট্রা। নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, তিলাওয়াত ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের হিফজ আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি তিলাওয়াতের শুদ্ধতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
হিফজ সম্পন্ন করার পর বুরুন্ডির একটি জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন পেন্ট্রা। সেখানে প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে এই সাফল্যের পরই তাঁর সামনে খুলে যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়ার দরজা। জাতীয় প্রতিযোগিতায় সেরা হয়ে এবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুরআনের হাফেজ ও ক্বারিদের সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।
পেন্ট্রা বলেছেন, ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে পবিত্র কুরআন এবং কুরআনের খাদেমদের প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতারও প্রশংসা করেছেন তিনি।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করায় সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।
পেন্ট্রা বুশিমা আমিনের ইসলাম গ্রহণ এবং মাত্র পাঁচ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার ঘটনা ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ইসলামি সংবাদ সংস্থা আইকিউএনএ এবং সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত তথ্যেও তাঁর এই যাত্রার কথা উঠে এসেছে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইসলামের সঙ্গে পরিচয়, এরপর ইসলাম গ্রহণ, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ইসলামের পথে আসা এবং মাত্র পাঁচ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ—পেন্ট্রার এই পথচলা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
আর জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়ে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তাঁর অর্জনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
পবিত্র মক্কার আন্তর্জাতিক মঞ্চে বুরুন্ডির পতাকা নিয়ে অংশ নেওয়া পেন্ট্রার এই সাফল্য কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



