হযরত শাহজালাল (র) মাজার তিন বছরেও বাস্তব রূপ পায়নি ‘মেগা প্রকল্প’

হযরত শাহজালাল (র) মাজার তিন বছরেও বাস্তব রূপ পায়নি ‘মেগা প্রকল্প’

২০২৩ সালে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজার ও দরগাহর উন্নয়নে নেয়া ৩০ কোটি টাকার একটি ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় পাওয়া দুই একর জমির উপর এ প্রকল্পের মাধ্যমে দরগাহর পুরো পরিবেশের আমুল পরিবর্তন হওয়ার কথা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি তিন বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।

নগরভবন সূত্র জানায়, সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) দরগাহকেন্দ্রিক ব্যস্ততা বাড়ছে দিন দিন। মানুষের উপস্থিতি, যানবাহনের আধিক্য, নিয়ন্ত্রণহীন পার্কিং ঘিরে যানজট বৃদ্ধি, লাশ দাফনে স্থান সংকুলানের সমস্যা সমাধান, ভিক্ষুক ভবঘুরে, ছিন্নমুল মানুষদের জন্য নিদিষ্ট জায়গা, দরগায় আসা গাড়িগুলোর আলাদা পার্কিং ব্যবস্থা, শৌচাগার এবং অজুর ব্যবস্থার সংকট দূরীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়।

সে অনুযায়ী নগর কর্তৃপক্ষ একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ত্রিশ কোটি টাকা। সিসিক’র সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় নেওয়া এ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাড় পায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় প্রাপ্তিসাপেক্ষে কাজ শুরুর কথা ছিলো।

এ প্রকল্পের আওতায়, মানিকপীর টিলার আদলে শাহজালালের কবরস্খন সংস্কার, ৭তলাবিশিষ্ট একটি বহুতল পার্কিং নির্মাণ, কাউন্সিলর অফিস, কমিউনিটি সেন্টার, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল, ফকির মিসকিন ভবঘুরেদের জন্য আলাদা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয় এ প্রকল্পে। সর্বোপরি দরগাহ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং শৃংখলায় নেয়া হয় ব্যাপক পরিকল্পনা। আর সে পরিকল্পনার আলোকে ৩০ কোটি টাকার গৃহিত প্রকল্পটির টেন্ডার আহবানও করা হয়। কিন্তু গত তিন বছরেও সে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদীও ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের তখনকার কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিকুল হাদী। প্রকল্পে সম্পর্কে তিনি তখন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন এই প্রকল্প পুরো বাস্তবায়ন হলে গোটা দরগাহ এলাকার চিত্রই পাল্টে যাবে। সব জায়গায় শৃংখলা এবং নিরাপত্তা বাড়বে। দরগায় আসা লোকজনের ভোগান্তিও কমবে। কিন্তু না। পুরো প্রকল্পই যেনো মুখ থুবড়ে পড়লো। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ্যে উঠে আসা দ্বন্ধের সময় অনেকেই প্রকল্পটির প্রসঙ্গ তুলছেন আলোচনায়।

এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলী আকবরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ৭৫% কাজ শেষ হয়েছে । মহিলা নামাজখানা, মুসাফির খানা, মাদ্রাসা, কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো ও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যদিও তিনি দাবি করেছেন ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত বড়জোর ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

 

 

আমারসিলেট/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০৭
  • ১২:০১
  • ৪:৩৩
  • ৬:৩২
  • ৭:৫০
  • ৫:২৬