সএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যেই খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার ৬০ হাজার ৯৭৪টি বিষয়ের নম্বর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে। সারাদেশে ৪ লাখ ২৫১ জন শিক্ষার্থী মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি বিষয়ের নম্বর পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে তত্ত্বীয় বিষয়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক বিষয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে। অর্থাৎ গড়ে একজন শিক্ষার্থী প্রায় তিনটি বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। আগের বছরের তুলনায় এবার পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বেড়েছে সাড়ে ৫ লাখের বেশি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আবেদন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এবার পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা চ্যালেঞ্জের প্রবণতা বেড়েছে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজারের বেশি।
সিলেট বোর্ডে ৬০ হাজারের বেশি আবেদন:
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে তত্ত্বীয় বিষয়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক বিষয়ে ৫৮ হাজার ১২টিসহ মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৭টি আবেদন পড়েছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মোট আবেদন পড়েছে ৬০ হাজার ৯৭৪টি। এ ছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ১২ হাজার ৬১১টি, রাজশাহীতে ১ লাখ ২২ হাজার ২২৮টি, যশোরে ৯১ হাজার ৫৯টি, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬০১টি, বরিশালে ৬১ হাজার ৮৬টি, দিনাজপুরে ১ লাখ ১১ হাজার ২৬০টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৯টি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫১ হাজার ২১৪টি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮৭ হাজার ১৫৭টি আবেদন জমা পড়েছে।
এবার পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নেও ছিল বাড়তি সতর্কতা ও কঠোরতা। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, প্রত্যাশার তুলনায় তাদের নম্বর কম এসেছে।
বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বেশি পড়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৪৬ হাজারের বেশি এবং গণিতে ৩৪ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। একই প্রবণতা দেখা গেছে অন্য বোর্ডগুলোতেও।
তবে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বাড়লেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের অধিকার। চলতি বছর আইন পরিবর্তন, কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া, অল্প নম্বরের জন্য ফেল বা গ্রেড পরিবর্তন না হওয়া এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন—এসব কারণে আবেদন বেড়েছে।
আগে পুনর্নিরীক্ষণে কোনো প্রশ্নের নম্বর যোগ না হওয়া, নম্বর গণনায় ভুল কিংবা কোনো উত্তর মূল্যায়নের বাইরে থেকে যাওয়ার বিষয়গুলো দেখা হতো। এবার পুরো উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকতারুজ্জামান বলেন, প্রচলিত পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কারণেই এবার আবেদন বেড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ শেষে ফল প্রকাশ করা হবে।



