হাওরাঞ্চলের ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে ৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতাল। প্রায় এক বছর আগে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি না থাকায় এখনো চালু করা যায়নি হাসপাতালটি। দিনের পর দিন ব্যবহারবিহীন থাকায় স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত রূপ নিয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্যে ভবন নির্মাণেই চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মার্চে কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হয়ে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালে গিয়ে সম্পন্ন হয় নির্মাণকাজ।
নির্মাণ শেষ হলেও ভবনের কয়েকটি জায়গায় সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এমন কিছু ত্রুটি থাকার পরও শর্তসাপেক্ষে ভবনটি বুঝে নেয় সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতি। তবে ভবন হস্তান্তর হলেও প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, যে কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহলের মতে, জনগণের চিকিৎসাসেবার জন্য নির্মিত একটি হাসপাতাল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলে। হাসপাতাল চালু হলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীরা স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে দ্রুত এটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতালের ভূমিদাতা পরিবারের সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, সুনামগঞ্জবাসীর কল্যাণের কথা চিন্তা করে যে স্বপ্ন নিয়ে আমার বাবা এই হাসপাতালের জন্য ভূমি দান করেছিলেন, দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় আমরা হতাশ। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এখানে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। হাসপাতালটি চালু হলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতালটি চালু করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, স্থানীয় হাসপাতালটি চালু হলে সুনামগঞ্জের মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র ডায়াবেটিস রোগীরা অনেক উপকৃত হবেন। চিকিৎসার জন্য তাদের আর সিলেট বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। এত টাকা খরচ করে ভবন বানিয়ে সেটি ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত হাসপাতাল চালু করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এখনো আমরা তা বুঝে পাইনি। প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ও ফার্নিচার ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। এগুলো যত দ্রুত আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তত দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।



