বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবরা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, সদস্যসচিব এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল দিন ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।”
এ ছাড়া পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি নেতা হাবিবুন্নবী খান সোহেল। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রিজভী বলেন, “বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের এক ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি মাতৃভূমির মুক্তির জন্য দিশাহীন জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে উজ্জীবিত করেছিলেন। সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিককে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার প্রেরণা ও উৎসাহ জুগিয়েছিলেন তিনি।”
তিনি বলেন, “দেশের এক ক্রান্তিকালে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর এই ক্ষণজন্মা মানুষটি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপ্রদীপের সামনে আসেন। রাষ্ট্রের হাল ধরার আগে যত অনাচার, অবিচার, গণতন্ত্র হরণ, হত্যা, কথা বলার স্বাধীনতা ও চলাচলের স্বাধীনতা যেভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল, তিনি ক্ষমতায় আসার পর সেসব পুনরায় চালু করেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হয়, ভিন্ন মতাবলম্বী সংবাদপত্র প্রকাশিত হতে থাকে এবং রাজনৈতিক দল করার অধিকার নিশ্চিত হয়। মানুষ ভয়ংকর দুর্বিপাকের রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান এ দেশের এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি। তিনি তিনটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিএনপি গঠন করেছিলেন- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র। এই স্পিরিটকে ধারণ করে তিনি দেশকে উন্নয়ন ও উৎপাদনের দ্রুততম পথে অগ্রসর করেছিলেন।”
রিজভী বলেন, “স্বাধীনতার পর এ দেশকে বিদেশীরা ‘তলাবিহীন ঝুলি’ বলেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমান সেই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, নিরক্ষর মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দিয়েছিলেন এবং খাল কেটে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। একদিকে মানুষের চাষাবাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে অন্যদিকে ফসল উৎপাদন দ্বিগুণ-ত্রিগুণ করেছিলেন তিনি।”
তিনি বলেন, “যখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, সেই মুহূর্তে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা প্রথম থেকেই জিয়াউর রহমানকে সহ্য করতে পারছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়া চক্রান্তের শিকার হন। তাদের এ দেশীয় অনুচরেরা জিয়াউর রহমানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা আয়োজন করে এবং ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে।”
রিজভী বলেন, “সেদিন কেবল একজন মানুষের মৃত্যু হয়নি; মনে হয়েছিল যেন আমাদের স্বাধীনতা গুলিবিদ্ধ হলো, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে নিঃশেষ করে দেওয়া হলো। কারণ তার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও খাল কাটা কর্মসূচিসহ দেশের উন্নয়নে সার্বিক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ” দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সামাজিক জরিপেও দল হিসেবে বিএনপি এবং ব্যক্তিগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবনীয় জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করেন রিজভী।



